রাজনীতি
বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নয়া দিগন্ত

দেশের মানুষ আর কোনোদিন গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে এ দেশে রাজনীতি করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

Advertisement

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জুমার নামাজের পূর্বে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের দুই দিনব্যাপী কর্মসূচীর সমাপনী দিনে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক এই দ্বীনি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমির আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী সরকারের বিগত শাসনের সমালোচনা করে বলেন, ‘যারা বাংলাদেশে অন্যায়, অভিশাপ ও দুঃশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের রক্ত নিয়েছে, এ দেশের ওপর অত্যাচার করেছে, সেই জালেম, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী ও খুনি আওয়ামী লীগ এ দেশে আর কোনো রাজনীতি করতে পারবে না।’

Advertisement

বিগত আন্দোলনের পটভূমি ও আলেম-ওলামাদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীন ও দেশের পক্ষে এবং ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারি রেখেছিল। এর নেতৃত্ব দিয়েছেন শ্রদ্ধেয় আমিরে হেফাজত হযরত মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী। তার পূর্বে যারা দায়িত্বে ছিলেন, বিশেষ করে হযরত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ আমাদের মুরুব্বিরাও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।’

স্বাধীনতার সংগ্রাম ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর লেগেছে, আর এই ফ্যাসিবাদী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে জনগণকে উদ্ধার করতে লেগেছে দীর্ঘ ১৭ বছর। রক্ত দিয়েছেন আলেম-ওলামা ও ছাত্রসমাজ। জাতিসংঘের হিসাবমতে কেবল জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেই এক হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। আর বিগত ১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। প্রায় সাত হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ মামলা-হামলায় নিপীড়িত হয়েছেন। এত রক্তের সিঁড়ি বেয়ে আমরা মুক্ত হয়েছি। আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমন চাই? যারা আজকে শিল্প খাত বা গার্মেন্টসে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তাদের পেছনেও সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে।’

সংবিধান ও দেশীয় মূল্যবোধ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা সংবিধানের প্রস্তাবনায় ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের কথা পুনরায় পুনঃস্থাপন করব, যা ফ্যাসিস্ট সরকার বাদ দিয়েছিল। সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন জিয়াউর রহমান, আমরা সেই আদর্শের রাজনীতিই করি। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী তৈরি ‘জুলাই সনদ’ আমরা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করব।’

আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা গণহত্যাকারী, তারা এখনো পর্যন্ত নিজেদের অপকর্মের জন্য অনুতপ্ত নয়, কোনো দুঃখ প্রকাশ করেনি। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে গিয়ে যারা দিল্লির আশ্রয়ে বসে আছে, তারা কখনো এ দেশে এসে রাজনীতি করতে পারবে না। রাজনৈতিকভাবে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু যে শক্তি ১৭ বছর ধরে আলেম-ওলামাদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, তাদের বিষয়ে পুরো দেশ আজ একমত।’

দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা দেশটাকে ঐক্যবদ্ধ রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ খাত ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি। সকল মানুষের পাশাপাশি আলেম-ওলামা ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ যাত্রায় দেশবাসীর সহযোগিতা এবং মুরুব্বিদের দোয়া আমাদের বড় সম্বল।’ এ সময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেন।

দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন স্তরের ওলামায়ে কেরাম ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।