সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে সড়ক অবরোধ 
পরিবহণ শ্রমিকরা খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। নয়া দিগন্ত

সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবিতে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে পরিবহন শ্রমিকেরা। 

Advertisement

আজ রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

রোববার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের জামতলী সুপারি বাগান এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। একইভাবে মেরুং সড়ক এবং কবাখালী-বাগেরহাট সড়কেও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এতে এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ, কর্মজীবী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। এতে পর্যটন, পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় ১ নভেম্বর এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও পরিবহন শ্রমিকেরা শুধু এক দিনের জন্য নয়, স্থায়ীভাবে সাজেক সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবহন শ্রমিকেরা জানান, সাজেক সড়ক বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতের শ্রমিক ও মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের অধিকাংশ যানবাহন কিস্তিতে কেনা। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় আয় না হলেও নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এভাবে অবরোধ চলতে থাকলে অনেক পরিবহন মালিক ও শ্রমিককে পথে বসতে হবে।

শ্রমিকদের দাবি, সাজেক সড়ক আগের মতো স্বাভাবিক করে দিতে হবে। শুধু এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল করে সমস্যার সমাধান হবে না। দ্রুত সাজেক সড়ক উন্মুক্ত করা না হলে তাঁদের আন্দোলন আরও জোরালো করা হবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিবহন শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। কর্মসূচি চলাকালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।