উজিরপুরে নৌকাবাইচ দেখতে সন্ধ্যা নদীর ২ পাড়ে মানুষের ঢল
উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীতে এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিল সেতুতে গিয়ে শেষ হয় । নয়া দিগন্ত

বরিশালের উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীর তীরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ-২০২৬ দেখতে নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল নামে। 

Advertisement

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীতে এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিল সেতুতে গিয়ে শেষ হয় নৌকাবাইচ। 

আটটি বাচারি নৌকার বৈঠার ছন্দ, পাল্লা দিয়ে ছুটে চলা আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে নদীতীর। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সন্ধ্যা নদীর লাজারেস ফলিয়ার দল। প্রথম রানার্সআপ হয়েছে বিষখালী নদীর পরিতোষ বালার দল এবং দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে সুগন্ধা নদীর সমীর সেনের দল।

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। পরে সেতুর ইছলাদী প্রান্তে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

প্রধান অতিথি বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন, নদীকেন্দ্রিক লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং নৌকাবাইচের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা পরিণত হয় মিলনমেলায়। নদীর দুই পাড়ে দর্শকদের উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাণ ফিরে পায় গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্য।

উপজেলা প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থা আভাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান ও আভাসের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেসকো এ আয়োজনে সহযোগিতা করে।

প্রতিযোগিতায় আটটি নৌকাকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রথম রাউন্ডে প্রতি গ্রুপে চারটি করে নৌকা অংশ নেয়। দুই গ্রুপের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী চারটি নৌকা ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ফাইনালে নৌকাগুলোর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত অন্য প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সন্ধ্যা নদীর লাজারেস ফলিয়ার দল।

আয়োজকেরা জানান, বরিশাল বিভাগের আটটি নদীর নামে নৌকাগুলোর নাম রাখা হয়। এগুলো হলো কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, আড়িয়াল খাঁ, সন্ধ্যা, ধানসিঁড়ি, তেঁতুলিয়া, পায়রা ও বিষখালী। গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন দলের প্রতিযোগীরা এতে অংশ নেন।