
নোয়াখালীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দলীয়করণ, অযোগ্য ব্যক্তিদের ডিলারশিপ প্রদান এবং অবৈধভাবে সার পাচারের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালী জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ইসহাক খন্দকার।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১০টার দিকে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব অভিযোগ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
ইসহাক খন্দকার বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। যাদের সার ব্যবসার পূর্ব অভিজ্ঞতা, নিজস্ব দোকান কিংবা প্রয়োজনীয় গুদাম নেই, এমন ব্যক্তিদেরও ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। কোথাও কৃষি কর্মকর্তার বাবাকে ডিলারশিপ দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রকৃত সার ব্যবসায়ী ও দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই ডিলারশিপ পাননি। অথচ তাদের কারও নিজস্ব গুদাম রয়েছে, আবার কেউ গুদাম ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। অভিজ্ঞ ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অনভিজ্ঞদের ডিলার নিয়োগ করায় সার সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’
সার পাচারের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অতীতেও নোয়াখালী থেকে সার ভারতে পাচারের অভিযোগ ও তথ্য সামনে এসেছে। বর্তমানে সার পাচার হয়ে মিয়ানমারে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
তার দাবি, পাচারের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার বাইরে চলে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সারের বিনিময়ে দেশে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য প্রবেশের আশঙ্কাও রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। অথচ সার পাচারের সঙ্গে মাদক প্রবেশের কোনো যোগসূত্র থাকলে তা দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।’
ইসহাক খন্দকার অভিযোগ করেন, ‘সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে একে অন্যের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে যখন সার সঙ্কটের আশঙ্কা ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার প্রাপ্তি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তখন ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ কৃষকরা। কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
জেলা আমির বলেন, ‘নোয়াখালীসহ সারা দেশের সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।’
একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত সার ব্যবসায়ী, অভিজ্ঞ, সৎ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ডিলারশিপ প্রদান এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








