রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের সাথে গাকৃবি ভিসির সৌজন্য সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের সাথে গাকৃবি ভিসির সৌজন্য সাক্ষাৎ। নয়া দিগন্ত

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) পঞ্চম সমাবর্তনে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকতে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গাকৃবির পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ১৮ মার্চ।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে গাকৃবির ভিসি অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এই সম্মতি জানান। এ সময় দেশের কৃষি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকাশে গাকৃবিকে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

সাক্ষাতে ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অর্জন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাফল্য এবং দেশের কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রযাত্রার চিত্র শুনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং গাকৃবি পরিদর্শনের আগ্রহও জানান।

গাকৃবি ভিসি রাষ্ট্রপতিকে জানান, গবেষণা, উদ্ভাবন, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে গাকৃবি। দেশের প্রথম ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করে গাকৃবি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান ও বৈশ্বিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ, অ্যাকাডেমিক মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন ভিসি। আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে গবেষণা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান ভিসি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। এর অংশ হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলের উপযোগী ও লবণাক্ততা-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন, মাঠপর্যায়ে কৃষিপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং দু’টি টেকনোলজি ভিলেজ অধিক জনবহুল এলাকায় স্থানান্তর ও বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন যাতে সরাসরি কৃষকের উপকারে আসে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সাক্ষাতে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি সংবেদনশীল থাকা, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া এবং পারস্পরিক আলোচনা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তুলে ধরেন ভিসি।

সাক্ষাৎকালে ২০২৬ সালে কৃষিতে আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ‘হুজ হু’ পুরস্কারপ্রাপ্ত মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞানী ভিসি অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: জাহিদুর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো: সফিউল ইসলাম আফ্রাদ ও রেজিস্ট্রার মো: আব্দুল্লাহ মৃধা।