লাশ
কাবিননামা দেখাচ্ছেন মৃতের স্ত্রী। নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম নারীকে বিয়ে করা এক যুবকের মৃত্যুর পর তার লাশের দাফন নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সৃষ্টি হয় টানাপোড়েন। হিন্দু পরিবার লাশ সৎকারের দাবি জানালে মুসলিম স্ত্রী দাবি করেন, তার স্বামী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করেছেন। 

Advertisement

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাশটি ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে বিয়ের কাবিননামা ও বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর লাশ বুঝে পান স্ত্রী। শেষ পর্যন্ত মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাকে দাফন করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকায়। নিহত যুবক চঞ্চল কুমার (২৩) ধর্ম পরিবর্তনের পর আব্দুল্লাহ নাম ধারণ করেছিলেন। তিনি কার্পাসডাঙ্গা আদিবাসীপাড়ার শ্রী মিলন কুমারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে চঞ্চল কুমার হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং আব্দুল্লাহ নাম রাখেন। পরে পাশের গ্রামের এক মুসলিম নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনযাপন করছিলেন।

সম্প্রতি ঢাকা যাওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জের শ্রীপুর মোড়ে একটি বাস দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ গ্রামের বাড়ি কার্পাসডাঙ্গায় পৌঁছালে শুরু হয় দাফন নিয়ে বিরোধ।

নিহতের বাবা শ্রী মিলন কুমার ও পরিবারের সদস্যরা লাশ সৎকারের দাবি জানায়। অন্যদিকে, নিহতের স্ত্রী হামিদা খাতুন দাবি করেন, তার স্বামী দুই বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করেছেন। তাই স্বামীর জানাজা শেষে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাকে দাফন করতে চান তিনি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে লাশটি কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাড়িতে নেয়া হয়।

পরে স্ত্রী হামিদা বেগম তার বিয়ের কাবিননামা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন। তিনি স্বামীর লাশ তার কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হলে স্থানীয় ব্যক্তিরা ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেন।

কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ জুম্মান খান, দর্শনা ডিলাক্স পরিবহনের মালিক এবং মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকির হোসেনসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা নিহতের মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাদের বুঝিয়ে লাশটি স্ত্রী হামিদা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর কার্পাসডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে আব্দুল্লাহর লাশ দাফন করা হয়।

কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ জুম্মান খান জানান, নিহতের স্ত্রী বিয়ের কাবিননামাসহ বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর লাশটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মো: মেজবাহ উদ্দিনও জানান, নিহতের মুসলিম স্ত্রী বিয়ের বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর লাশটি তার কাছে দেয়া হয়।