ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু
লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। নয়া দিগন্ত

‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে’ বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। 

Advertisement

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ নানা ধরনের প্রাকৃতিক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণসহ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার চাঁদনী বাজার এলাকায় তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সবুজ সেবা যুব বিজ্ঞান সংঘের আয়োজনে জেলার পাঁচটি উপজেলায় লক্ষাধিক তালবীজ রোপণের এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ডিসি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় নিজ হাতে তালবীজ রোপণ করে কর্মসূচির সূচনা করেন মন্ত্রী। 

এ সময় তিনি বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দুর্যোগে প্রাণহানি অনেকটা কমেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

‘বিশুদ্ধ পরিবেশ গড়ব, পৃথিবী সবুজে সাজাব’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচির লক্ষ্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বাড়ানো এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা তৈরি করা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা: রাশেদুল হক প্রধান। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার মো: আসাদুজ্জামান, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মো: খাইরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান, প্রধান শিক্ষক একরামুল হক সরকার, প্রভাষক হারুন উর রশিদ, আলাউদ্দিন আল আজাদ, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম লিটন, ইউসুফ আহমেদ রোকন, আজহারুল ইসলাম ও রমজান আলী মুরাদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণে সবুজ সেবা যুব বিজ্ঞান সংঘ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এর আগে তিস্তা থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত রেলপথের দুই পাশে প্রায় ৪০ হাজার তালবীজ রোপণ করে সংগঠনটি। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলায় লক্ষাধিক তালবীজ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করছেন তারা।