
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার দেখে প্রতিপক্ষ ভয় পেয়েছে। তারা আমাদের সভা সামবেশে বাঁধা দিচ্ছে। তারা আমাদের নেতাকর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে, আমাদের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ছিড়ে ফেলছে। যত হুমকি, ধমকি, বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করুক না কেন, তারা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মন থেকে দাঁড়িপাল্লাকে মুছে ফেলতে পারবে না।’
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের পাঠাগার মাঠে আয়োজিত ছাত্র-যুব গণজমায়েতে দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটাররা ব্যালট বিল্পবের মাধ্যমে সব অন্যায় ও জুলুমের জবাব দেবে। তারা যদি আমাকে হুমকি দিতে পারে, তাহলে এ দেশের সাধারণ মানুষের অবস্থা কী, সেটা একবার ভাবুন। নির্বাচনে আমি একজন প্রার্থী, আজকে আমাকে বাধা দিয়েছে, কাল আপনাকে দেবে, দুইদিন পর আরেকজনকে দেবে, তিন দিন পর আপনার বউকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে। চার দিন পর আপনার সন্তানকে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যাবে।’
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই ঠাকুরগাঁওয়ে এ সন্ত্রাসী-মাস্তানদের অভয়ারণ্য হতে দেব না। হয় তারা ভালো হয়ে আমাদের সাথে বসবাস করবে, না হয় তাদেরকে আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি থেকে বিতাড়িত করব, ইনশাআল্লাহ। আমরা আল্লাহ ছাড়া কোনো সন্ত্রাসী-মাস্তানকে ভয় পাই না। সুতরাং ধমক দিয়ে, হুমকি দিয়ে কখনো আমাদেরকে থামানো যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি উন্নয়নের কথা বলে বেড়ালেও গত আট মাসে ঠাকুরগাঁওয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর আগেই ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন গত সরকার দিয়ে গেছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের নেতার নিকটাত্মীয়কে ভিসি নিয়োগ দিয়েছে। যেখানে প্রথমবার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগেই দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কথা বলছে, সেটাও গত সরকার শুরু করেছে। বিএনপির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন নেই। তবুও তারা উন্নয়ন উন্নয়ন জপছে।’
১১ দলের প্রার্থী বলেন, ‘গত সংসদ নির্বাচনের আগে তারা ওয়াদা করেছিল, ক্ষমতায় গেলে ছয়মাসের মধ্যে তারা এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান করবে। কিন্তু কর্মসংস্থান তো দূরের কথা, আজকে সাত মাসের পরিসংখ্যান বলছে, তারা একজনের চাকরিও দিতে পারেনি। বরং তারা ক্ষমতায় আসার পর হাজার হাজার মানুষ তাদের কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে গেছে।’
জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘অতীতে বার বার এ এলাকার মানুষ তাদের এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছিল। কিন্তু জনগণের ভোট নিয়ে তারা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে। তাদেরও দলের পরিবর্তন হয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা ধনী হয়েছেন, আর জনগণ ক্রমেই গরিব হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে ঠাকুরগাঁও থেকেই শুরু হবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশে বিনির্মাণের যাত্রা। এখানে আর কোনো বৈষম্য থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী এখন বলছেন, নির্বাচিত হলে নাকি তারা ৩০ তারিখের মধ্যে ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত করবেন। আমার প্রশ্ন হলো, গত নির্বাচনেও তো আপনারা একই ওয়াদা করেছিলেন, তাহলে কেন মাদক মুক্ত করলেন না? আসলে তাদের দ্বারা মাদক নির্মূল নয়, বরং বিস্তার ঘটেছে। মাদক কারবারিদের নেতৃত্বে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা আসবে না।’
১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘যারা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের লালন করে এবং মাদক ও অস্ত্রের রাজনীতি করে, তাদের নেতৃত্বে জনগণ বারবার শোষিত, নির্যাতিত হয়েছে। শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়তে আপনাদের সহযোগিতা, সমর্থন ও দোয়া চাই।’
দেলাওয়ার হোসেন আরো বলেন, ‘১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও ২৪-এর জুলাই-আগস্টের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-যুবকরাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশের জন্য লড়াই করেছে। আগামী দিনে সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত উন্নত ঠাকুরগাঁও গড়তে আবারো ছাত্র-যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের ভূমিপুত্র, মজলুম জননেতা, ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে অতীতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে মাসের পর মাস তাকে অন্ধকার কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন রিমান্ডে নিয়ে তার কণ্ঠরোধ করতে অবর্ণনীয় নির্যাতন করা হয়েছে। কিন্তু দেলোয়ারের কণ্ঠ তারা স্তব্ধ করতে পারেনি।’
শিবির সভাপতি বলেন, ‘উপনির্বাচনে বিএনপি যাকে প্রার্থী করেছে, তার নামে কখনোই কোনো মামলা হয়নি, তিনি কখনো কারাগারেও যাননি। সোনার চামচ মুখে নিয়ে নিজের বাণিজ্য ঠিকঠাক মতো চালিয়ে গেছেন। সুতরাং, বিএনপিকে নয়, আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে।’
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীরের সভাপতিত্বে ও যুবনেতা জাকির হোসেনের পরিচালনায় গণজমায়েতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।
সমাবেশে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ, প্রেস সেক্রেটারি অধ্যক্ষ শাহ জালাল জুয়েল, সাবেক ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ ও মতিউর রহমান, ঠাকুরগাঁও শহর শিবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








