
আলিয়া মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি বলেন, ‘মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং ঈমান-আকিদা নষ্ট করার লক্ষ্যে পাঠ্যবইয়ে ডারউইনের মতবাদ ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো লেখকদের সাহিত্য অন্তর্ভুক্ত করে একটি ‘ব্রাউনম্যান প্রজন্ম’ গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।’
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার শহীদ আবদুল মালেক মিলনায়তনে আলিম প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেন, ‘চার-পাঁচ বছর আগেও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ ও পাসের হার অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমান ও বিগত সরকারের সময়ে আলিয়া মাদরাসা থেকে শিক্ষার্থীদের মুখ ফিরিয়ে নিতে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আলিয়া মাদরাসার শিক্ষাকাঠামোকে স্কুল-কলেজের মতো করে ফেলা হয়েছে। এখন স্কুল-কলেজে যে বই পড়ানো হয়, মাদরাসাতেও একই বই পড়ানো হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘২০১০ সালেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগে তা’মীরুল মিল্লাতসহ বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে দেয়া হতো না। ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল করার পরও তাদের এসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ দেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘মাদরাসা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় বাংলায় ১০০ ও ইংরেজিতে ১০০ নম্বরের পাঠ্যক্রম থাকার যুক্তি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হতো। এ ঘটনায় আমরা মামলা করেছিলাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘মাদরাসার শিক্ষার মান আরো উন্নত ও আধুনিকায়ন করা গেলে এই শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীরা বিশ্বপর্যায়ে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিশির মনির বলেন, ‘আগামীতে যে রাজনীতি দেশে আসছে, আমার ধারণা, দলীয় ও পারিবারিক রাজনীতি দেশ থেকে চলে যাবে। ২০ বছর পরে তোমাদের মধ্য থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবে, ইনশাআল্লাহ। সুতরাং এখন থেকেই সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এখন মাথা ঠাণ্ডা রাখার সময়, কাজ বেশি করার সময়।’
ছাত্রশিবির টঙ্গী মডেল শাখার সভাপতি মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শাখা সম্পাদক মুর্তজা হাসান ফুয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. আবদুর রব, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. হেফজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, গীতিকার ও সুরকার শিল্পী মশিউর রহমান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিল্পী মশিউর রহমান ও ‘তুরাগ শিল্পী গোষ্ঠী’র পরিবেশনায় ইসলামী সঙ্গীত অনুষ্ঠিত হয়। মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সেই পরিবেশনা উপভোগ করেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








