
কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে পৃথক করে সদ্য ঘোষিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালীতে বেড়িবাঁধের তিনটি স্লুইসগেট খুলে দেয়ায় ফসলি জমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই এলাকার প্রায় ৬০০ হেক্টর আবাদি জমির মৌসুমি ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে লবণাক্ত পানির কারণে ফসল রক্ষা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনাখালী এলাকার বেড়িবাঁধে থাকা তিনটি স্লুইসগেট মূলত বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ও বন্যার পানি নিষ্কাশনের কাজে ব্যবহৃত হয়। স্লুইসগেটগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও বর্তমানে এগুলোর দেখভাল করেন স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম। তিনি তিনটি স্লুইসগেটের দেখভালের দায়িত্ব তিনজনকে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাছ চাষের সুবিধার্থে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রতিরাতে স্লুইসগেটগুলো খুলে দেন এবং সকালে বন্ধ করে দেন। এভাবে জোয়ারের সাথে লবণাক্ত পানি খালে প্রবেশ করে আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে চলতি মৌসুমের ধান ও সবজি চাষ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
কোনাখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, ‘খালের পানি লবণাক্ত হয়ে যাওয়ায় জমিতে সেচ দেয়ার জন্য পুকুরে মেশিন বসিয়ে পানি তুলছি। কিন্তু পুকুরের পানি দিয়েও ক্ষেত টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে স্লুইসগেট দিয়ে লবণাক্ত পানি ঢোকানো হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শত শত একর জমির ধান ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো স্লুইসগেটগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না হলে জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি মৌসুমি ফসল ঘরে তোলা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। বিশেষ করে যেসব কৃষক ঋণ ও ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছেন, তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম বলেন, ‘যারা স্লুইসগেটগুলোর দেখভাল করছেন, তাদের নিষেধ করা হয়েছে। তারা আর স্লুইসগেট খুলবেন না।’
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী জানান, স্লুইসগেট-সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৬০০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। স্লুইসগেট খুলে দেয়ার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ফসলি জমিতে লবণাক্ত পানির প্রবেশ বন্ধ করতে দ্রুত স্লুইসগেটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত জমির অবস্থা যাচাই এবং কৃষকদের ফসল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, তিনি বিষয়টি শুনে স্লইস গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








