
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। এমনকি বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলে অর্থাভাবে যাতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে না যায়, সেই বিষয়েও সরকার উদ্যোগ নেবে।’
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট প্রেস ক্লাবে শিক্ষা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট প্রেস ক্লাব-নূর ফাউন্ডেশন উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শুধু সিলেট নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলে-মেয়েরাও এ সহায়তার আওতায় আসবে। মেধার বিকাশে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট অঞ্চলে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ শনিবার প্রায় ৪৮ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের চিকিৎসার জন্যও দেশব্যাপী আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষও এ সহায়তার আওতায় রয়েছেন।’
সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এ জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের মৌলিক সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সাংবাদিকরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।’
এ সময় মন্ত্রী সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার যেসব সমস্যা আছে সেগুলো যে যে মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত, সেই সব মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দেন।
সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ঢাকার সহ-সভাপতি তোফায়েল খান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শামসুল ইসলাম বলেন, ‘নূর ফাউন্ডেশনের শিক্ষা সহায়তা উদ্যোগ সিলেট প্রেস ক্লাবের সদস্য ও তাদের সন্তানদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজকে আলোকিত করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ঢাকার সহ-সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক ও দর্পণ। সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে অবহেলিত মানুষের দুর্দশা ও বঞ্চনার চিত্র উঠে আসে, যা সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সিলেট প্রেস ক্লাবের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মরণীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আমি আপনাদের সাথে কাজ করতে চাই।’
সভাপতির বক্তব্যে নূর ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা ও সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর বলেন, ‘শিক্ষার প্রসার ও মানুষের কল্যাণের চিন্তা থেকেই নূর ফাউন্ডেশনের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষক পরিবারের সন্তান হিসেবে শিক্ষার প্রতি আমার পরিবারের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। আমার প্রবাসী ভাইয়ের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরো বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকেও এ উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা রয়েছে। আমরা আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে ফাউন্ডেশনের তহবিল এক কোটি টাকায় উন্নীত করতে কাজ করছি। এ অর্থ ওয়াকফভিত্তিক স্থায়ী আমানত হিসেবে সংরক্ষণ করে এর আয় থেকে প্রতিবছর শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনার রয়েছে।’
সিলেট প্রেস ক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে মুকতাবিস উন নূর বলেন, ‘১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৫০ হাজার টাকার অনুদান দিয়ে প্রেস ক্লাব ভবন নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ভবনটির সম্প্রসারণ ঘটে। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের স্বপ্ন ছিল সিলেট প্রেস ক্লাবকে সাততলা ভবনে রূপ দেয়ার, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেস ক্লাবের নেতারা সাংবাদিকদের চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর কল্যাণ তহবিল গঠনের দাবি জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে অনেক সাংবাদিককে আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। তাঁদের চিকিৎসা ও দুর্দিনে পাশে দাঁড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি।
বক্তারা সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ট্রেনের আসন ও টিকিট সঙ্কট, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে জটিলতা এবং প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সেবা সহজ করার বিষয়েও মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও সিলেট বাণীর নির্বাহী সম্পাদক এম এ হান্নান, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্যুরো চিফ আবদুল কাদের তাপাদার, সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউস শামস শাহীন, সহ-সভাপতি ফয়সল আলম, দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যুরো প্রধান হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক ইনকিলাবের ব্যুরো চিফ ফয়ছল আমিন এবং প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও দেশ টিভির সিলেট প্রতিনিধি খালেদ আহমদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে মোট ১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তার অর্থ প্রদান করা হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








