
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির ও ১১ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ‘জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সাথে বিএনপি বেইমানি করেছে। সরকার গঠনের পর বিএনপি জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের অধিকার পদদলিত করছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের প্রশ্নে দলটি নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।’
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চের কাচারিপাড়া মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদে সমাবেশে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। যে দল গণভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকারব্যবস্থা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নজির তৈরি করেছিল, সেই দলই এখন গণভোটের রায় নিয়ে ছলচাতুরি করছে।’
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে সরকার গঠন করা হলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় উপেক্ষা করা হচ্ছে। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অসম্মতি জানানোর মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা দেখানো হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সংবিধান সংশোধন চাই না, আমরা চাই সংবিধান সংস্কার। এমন সংস্কার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা আদালতের সিদ্ধান্তে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সহজে বাতিল হয়ে না যায়।’
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে এমন একটি সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অন্যায়, জুলুম ও বঞ্চনার সুযোগ থাকবে না। দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধানের পদ ও ক্ষমতা পৃথক করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের নিয়োগ ও কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানোর মতো বিষয়গুলোও সংস্কারের অংশ হওয়া প্রয়োজন।’
জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করা হয়েছিল।’
মামুনুল হকের অভিযোগ, ‘নির্বাচনের আগে সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। কেবল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন স্থায়ী করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে কোনো সরকার যাতে সহজে এসব পরিবর্তন বাতিল করতে না পারে, সেজন্য কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন।’
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট, চুরি-ডাকাতি, হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ন্ত্রণে সরকার যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না। এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও ঘুষ আদায়ের মতো অপরাধ কর্মকাণ্ড জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খন্দকার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তাজুল ইসলাম কাসেমী ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু ইউসূফ মাহমুদীর যৌথ পরিচালনায় এতে কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন আকন্দ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী ও মাওলানা আব্দুল আজিজ, মাওলানা তানভীরুল হক সিরাজী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাওলানা মাঈনুল ইসলাম খন্দকার ও জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রভাষক আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
সমাবেশে নেতারা জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ অংশগ্রহণ করবে। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। নেতারা দলীয় নেতাকর্মী ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে আন্দোলনে অংশ নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনার আহ্বান জানান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








