
আট মাস বন্ধ থাকার পর ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরেছে জামালপুরের যমুনা ফার্টিলাইজার। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কারখানাটিতে পুরোদমে দানাদার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় প্রতি টন ইউরিয়া উৎপাদনে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিদেশ থেকে একই পরিমাণ সার আমদানিতে খরচ পড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা। বর্তমানে এই কারখানায় দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন সম্ভব। এই পরিমাণ সারের বাজারমূল্য প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, এই কারখানায় দৈনিক গড়ে আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার গ্যাস প্রয়োজন হয়।
নিয়মিত উৎপাদন চালু থাকলে গ্যাস বিল ও অন্যান্য খরচ পরিশোধের পরও সরকারের দৈনিক প্রায় ২ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে জানা গেছে। সে হিসাবে মাসে গ্যাস বিলসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় মিটিয়েও প্রায় ৬০ কোটি টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম, বয়লার, পাওয়ার প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সচল রাখতে প্রতি মাসে ৬ কোটি টাকার বেশি গ্যাস ব্যয় হয়। উৎপাদন বন্ধ থাকলে ওই টাকা পুরোপুরিই কারখানার জন্য লোকসান হতো।
কারখানা সূত্র আরো জানায়, নিরবচ্ছিন্ন যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটিও দেখা দেয়। এতে উৎপাদন সক্ষমতা কমে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টনে নেমে আসতে পারে।
ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি যমুনা সার কারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। পরে ২০২৫ সালে কিছুদিন গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর যমুনা ফার্টিলাইজারে গ্যাস সরবরাহ দেয়া হয়। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদনের প্রস্তুতি শুরু করে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা করে কারখানাটি। কিন্তু প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় দৈনিক প্রায় আড়াই কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহার হলেও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি সপ্তাহে তিতাস গ্যাস পর্যাপ্ত চাপসহ সরবরাহ বাড়ানোর পর কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে ইউরিয়া উৎপাদনে সক্ষম হয়।
যমুনা সার কারখানার বিভাগীয় প্রধান (অ্যামোনিয়া ও ইউটিলিটি) মো: ফজলুল হক বলেন, ‘গ্যাস সঙ্কট, যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারের নির্দেশে গ্যাস সরবরাহ দেয়া হলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সোমবার তিতাস গ্যাস পর্যাপ্ত চাপসহ সরবরাহ করায় মঙ্গলবার রাত ৩টা ১০ মিনিট থেকে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে।’
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানায় ১৯৯১ সাল থেকে ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়ে আসছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সার কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। তবে যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় ইউরিয়া সার সরবরাহে কারখানাটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘ বন্ধের পর উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় এসব অঞ্চলে ইউরিয়া সারের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন কারখানাটি পুনরায় সচল করতে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিসিআইসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








