মিঠাপুকুরে ভেজাল গুড় তৈরির অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা

 মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল গুড় তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুকুরের হাট, গেনারপাড়া, ফুলচৌকি, খামারপাড়া ও জগদীশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক কারখানায় আখ বা খেজুরের রসের পরিবর্তে চিনি ও বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে গুড় তৈরি করা হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কারখানায় চিনির সাথে পচা মিষ্টির শিরা, বিভিন্ন রঙ ও রাসায়নিক উপাদান মেশানো হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব গুড় আখ বা খেজুরের গুড় হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় অভিযানে কারখানাগুলো থেকে রাসায়নিক উপাদান উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
তাদের দাবি, এলাকায় উল্লেখযোগ্য আখ চাষ না থাকলেও এসব কারখানায় বিপুল পরিমাণ গুড় উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত গুড় বিভিন্ন জেলার নামে চালান দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পর কারখানা বন্ধ ও জরিমানা করা হলেও কিছুদিন পর আবার উৎপাদন শুরু হয়। ২০২১ সালে একটি অভিযানে কারখানা সিলগালা করা হয়। ২০২৫ সালেও পৃথক অভিযানে জরিমানা এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল ধ্বংস করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ভেজাল গুড় তৈরির সাথে জড়িতদের কাছ থেকে কথিত ‘মাসোয়ারা’ নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে পৌঁছে দেয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এ অভিযোগ অস্বীকার বা সমর্থনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: পারভেজ বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাউকে খেলতে দেয়া হবে না।’
স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, ভেজাল গুড় তৈরির কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।