
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘লংমার্চ কোনো একক রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি না; এর মাধ্যমে আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। লংমার্চে যে ৮ দফা দেয়া হয়েছে তা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির
দফা।’
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুলাউড়া সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইড লাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার আসলে আমার আবেগ কাজ করে। এখানকার মানুষ যেখানে গেছেন সেখানে মানুষের জন্য কাজ করেছেন। এই এলাকার কৃতি সন্তান ডা: শফিকুর রহমান হাসিনার রোষানলে পড়েও দেশ ছেড়ে যাননি। জনতার কাতারে ছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘বিগত ৫৫ বছরে যারা দেশের নেতৃত্বে ছিলেন তারা এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তারা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিচালনা করেছেন। যার মূল কারণ ছিল নেতৃত্বের অসততা। তাদের ছিল না কোনো ভিশন। কিন্তু এর ব্যতিক্রম দেখতে পেয়েছি যিনি সমাজ গড়তে কাজ করছেন—তিনি হলেন শহীদ মীর কাসেম আলী। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। সারাটা জীবন মানবতার কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব শেষে ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা ট্রাস্টসহ মেডিক্যাল কলেজ, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল নির্মাণ করে হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সর্বশেষ ফ্যাসিবাদি সময়ে হাসিনা মীর কাশেম আলী, আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ জাতীয় নেতাদের ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে জুডিশিয়াল কিলিং এ হত্যা করেছে।’
ডাকসু ভিপি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকারে যারা এসেছেন তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। হাসিনা ও তাদের দোসরদের বিচার করবে। পাশাপাশি জ্বালানি সঙ্কট দূর করবে। কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়ন থেকে দূরে সরে এসে সরকার গত সাত মাসে পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, আইন শৃঙ্খলার অবনতিসহ সব জায়গায় সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। জনগণের মৌলিক সঙ্কট নিরসনে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান ডাক দিয়েছেন। সরকার সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মৌলিক সঙ্কট নিরসনে এগিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মানে তোমাদের কাজ করতে হবে। তোমরাই আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্কট নিরসন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের যতগুলো সঙ্কট ছিল ডাকসু গত এক বছরে তা দূর করেছে।’
কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রী কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা দক্ষিণের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন খাঁন, উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুন্তাজিম, সেক্রেটারি প্রভাষক বেলাল আহমদ চৌধুরী, পৌর আমির মো: জাকির হোসেন প্রমুখ।








