উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ডেঙ্গু রোগী, চিকিৎসা
বেডে জায়গা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু রোগীরা নয়া দিগন্ত

ডেঙ্গুর চাপে বিপর্যস্ত পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা ১০০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ডেঙ্গু রোগীর চাপে উপজেলা হাসপাতালে পা ফেলার জায়গা নেই। ফলে সেবা দিতে বাড়তি চাপে পড়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালের ওয়ার্ডে সিট না পাওয়ায় মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও মহিলা-পুরুষ ওয়ার্ডেও রোগীর প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। 

এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: কামাল হোসেন জানান, গত কয়েক দিনে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন এবং সর্বোচ্চ ৭০ জন রোগী সেবা নিতে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে যারা বেশি আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর জন্য ছাড়পত্র দেয়া হয়। 

এদিকে হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে ৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ১ জানুয়ারী থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৪৬৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে ৪৩১ জন রোগী সুস্থ হওয়ায় তাদের ছাড়পত্র দেয়া হয়। 

এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এডিস মশার লার্ভার প্রজনন স্থান ধ্বংসে উপজেলা, পৌরসভা, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিংসহ উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ সকল জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি, বেসরকারি দফতর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে প্রতিদিন সভা, সেমিনার ছাড়াও সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীদেরকে জরিমানার আওতায়ও আনা হচ্ছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: ইব্রাহীম মোল্লা জানান, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অত্যন্ত বাড়তি। হাসপাতালের মেঝেতেও পা ফেলার জায়গা নেই। ডেঙ্গুর চারটি ভেরিয়েন্টের মধ্যে বর্তমানে ডেন টু ই বেশি। ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো সমস্যা না থকলেও ডাক্তার, নার্স, টেকনোজলিস্ট, টেকনিশিয়ানসহ জনবল সঙ্কট রয়েছে। হাসপাতালে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানও অব্যাহত আছে।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ও পৌর প্রশাসক ইউএনও মো: হাসিবুল হাসান বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা একবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জনসচেতনতা বাড়াতে সকলস্তরে মানুষের সাথে প্রতিদিন পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা সভা ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।’