বিসিবি, বিসিবি সভা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বিপিএল, তামিম ইকবাল
গুরুত্বপূর্ণ সভায় বসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস পর আজ পরিচালনা পর্ষদের সভায় বসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রোববার দুপুরে মিরপুরে হতে যাওয়া এই সভায় দেশের ক্রিকেটের আগামী কয়েক মাসের রূপরেখা, ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচি, জাতীয় দলের নেতৃত্ব ও বিপিএল ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।

চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই জানিয়েছে বিসিবি। গত দুই আসরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থাপনা, নিয়মভঙ্গ ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে টুর্নামেন্টটির কাঠামো নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে বিপিএল আয়োজন না করে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নতুন কাঠামোয় টুর্নামেন্টটি ফেরাতে চান তারা। এদিকে বিপিএল না হওয়ায় ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কীভাবে সামাল দেয়া হবে, সেটিও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিকল্প কোনো বড় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিবর্তে ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোর ম্যাচ ফি বাড়ানোর দিকে এগিয়েছে বিসিবি। এ বিষয়ে কোয়াবের সাথে আলোচনাও হয়েছে ও চারটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফলে আজকের সভায় বিপিএলের বিকল্প হিসেবে নতুন কোনো টুর্নামেন্টের ঘোষণা আসে কি না, তার চেয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন কাঠামো কীভাবে সাজানো হবে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এবং অন্যান্য ঘরোয়া প্রতিযোগিতার সূচি ও কাঠামো নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এদিকে বিপিএলকে কীভাবে নতুন রূপে ফেরানো হবে, সেই পরিকল্পনাও সভার আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

বিসিবি ইতোমধ্যে জানিয়েছে, নতুন কাঠামোয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক কাঠামো ও নিয়মকানুনে পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। বোর্ডের পরিকল্পনা, বিপিএলকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার বদলে টুর্নামেন্টটির ভিত্তিগত সমস্যাগুলো আগে সমাধান করা।

ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি জাতীয় দলের নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে পরিবর্তনের আলোচনা থাকায় বোর্ড সভার এ বিষয়টিও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে বিসিবির সভার সম্ভাব্য আলোচ্যসূচিতে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারের বিষয়টি উঠে এসেছিল।

নারী ক্রিকেটের বিভিন্ন পরিকল্পনা, কোচ নিয়োগ এবং আগামী মৌসুমের কার্যক্রম নিয়েও বোর্ডে আলোচনা হতে পারে। সব মিলিয়ে আজকের সভা থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো ঘোষণা আসার পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটের আগামী কয়েক মাসের পরিকল্পনাও স্পষ্ট হতে পারে।