চাটমোহরে গোখাদ্যের সঙ্কট কমছে দুধ উৎপাদন

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা 
সম্প্রতি বন্যায় পাবনার চাটমোহরে গোখাদ্যের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ গোচারণভূমি ও ঘাসের মাঠ। নষ্ট হয়েছে সংরক্ষণ করে রাখা ধানের খড়সহ অন্যান্য গোখাদ্য। এতে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। খাদ্যসঙ্কটে দুর্বল হয়ে পড়ছে গরু-মহিষসহ বিভিন্ন পশু। কমে যাচ্ছে গাভীর দুধ উৎপাদনও। 
ছাইকোলা, বিলচলন, নিমাইচড়া ও হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ সঙ্কট বেশি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভাটি এলাকার খামারিরা চলনবিলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বাড়তি দামে খড় কিনে নৌকা ও সড়কপথে নিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার কারণে চারণভূমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশু চরানোর কোনো সুযোগ নেই। বাজারেও গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য কিনতে পারছেন না। 
খামারিরা আরো জানান, প্রতি মণ খড় এখন আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সাথে খইল ও ভুসির দামও বেড়ে গেছে। খাদ্যের অভাবে কেউ কেউ গবাদিপশুকে উঁচু জায়গা কিংবা সড়কের পাশে বেঁধে রাখছেন। অনেকে ধানের কুঁড়া ও অল্প পরিমাণ শুকনা খড় দিয়ে পশু বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ নদী ও বিল থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করে তাদের গবাদি পশুকে খাওয়াচ্ছেন। 
বিলচলন ইউনিয়নের সেনগ্রাম এলাকার খামারি মো: মামুন বলেন, ‘খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় গবাদিপশুর খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে কচুরিপানা খাওয়াতে হচ্ছে। এতে পশু অসুস্থ হওয়ার পাশাপাশি গাভীর দুধও কমে যাচ্ছে। এভাবে চললে গবাদিপশু পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে।’ 
চাটমোহর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভেটেরিনারি সার্জন ডা: স্বপন কুমার বলেন, বর্ষাকালে খামারিদের গোখাদ্যের সঙ্কট দেখা দেয়। অনেকে কচুরিপানা খাওয়ান। তবে কাঁচা কচুরিপানা গবাদিপশুকে না খাওয়ানোই ভালো। এতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। শুকিয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়ানো যেতে পারে। তিনি গবাদিপশুর জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।