
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ নগরীতে যানজট এখন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও অলিগলিতে ইজিবাইক, মিশুক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্যে এই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। একই সাথে ব্যাটারি চার্জ করতে বিপুল পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচের বিষয়টিও বিবেচনায় আসছে।
সংশ্লিষ্টদের হিসেব মতে, নগরীতে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ হাজার অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ করতে মাসে প্রায় ১৯ লাখ ২২ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু এলাকায় অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করেও ব্যাটারি চার্জ দেয়া হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের হিসেবে, লাইসেন্সধারী অটোরিকশা ও মিশুকের সংখ্যা ১৬ হাজারেরও কম। এর বাইরে রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার অননুমোদিত অটোরিকশা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার অটোরিকশা নগরীতে প্রবেশ করে।
শম্ভুগঞ্জ, পাটগুদাম, চরপাড়া, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, টাউন হল ও বাতিরকলসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন দেখা গেছে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অবৈধ স্ট্যান্ড, সড়ক দখল করে হকার বসা ও গাড়ি পার্কিং পরিস্থিতি আরো জটিল তুলছে যানজট। বিশেষ করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় যানজটে অ্যাম্বুলেন্সের চলাচলেও বিঘœ ঘটছে।
টিআইবি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সহসভাপতি শরীফুজ্জামান টিটু বলেন, নগরীর প্রয়োজন অনুযায়ী অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করে অবৈধ যানবাহন বন্ধের পাশাপাশি ব্যাটারি চার্জে বিষয়টিও নজরদারিতে আনা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নগরীর অনেক সড়ক সঙ্কীর্ণ হওয়ায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। অবশ্য যানজট নিরসনে আমাদের উদ্যোগের কমতি নেই।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: রুকুনোজ্জামান রুকুন জানান, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল প্লেট ও চালকের ছবিসহ লাইসেন্স চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণে ‘রেস্ট্রিক্টেড জোন’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অটোরিকশা বন্ধের বদলে সংখ্যা, রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ এবং সড়ক দখলমুক্ত করাই হতে পারে কার্যকর সমাধান।







