
শফিউল আযম বেড়া (পাবনা)
পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার ভূগর্ভে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে জ্বালানি খাত। দেশের উত্তরাঞ্চলে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম কোনো বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র। অনুসন্ধান সফল হলে এখান থেকে টানা ২০ বছর প্রতিদিন অন্তত ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে অনগ্রসর উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়ন ও সার্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন আসবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সাঁথিয়া উপজেলার পাগলা গ্রামের কূপে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ শেষে পাইপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে প্রযুক্তিগত জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে পরবর্তীতে সেখান থেকে উত্তোলন বন্ধ থাকে। বর্তমানে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। পাগলা কূপটি পরিত্যাগ না করে দ্বিতীয় কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাপেক্স। একই সঙ্গে সুজানগর ও সাঁথিয়ার সীমান্তবর্তী মোবারকপুর এলাকায় গভীর কূপ খননের মেগা পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
ভূকম্পন জরিপের ইতিবাচক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই মোবারকপুরে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে ২০১৪ সালে ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোবারকপুরে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরতায় কূপ খনন শুরু করেছিল বাপেক্স।
বর্তমানে সুজানগর উপজেলার আহম্মেদপুর মৌজার কুড়িপাড়া গ্রামে অধিগ্রহণ করা ছয় একর (১৮ বিঘা) জমিতে মূল ভিত্তি ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাপেক্স জানায়, প্রকল্পটির রিগ ফাউন্ডেশন ও পাইলিং কাজ শেষে ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হবে মূল খননকাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালের শেষের দিকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে কাক্সিক্ষত এই গ্যাস।
ছয় কিলোমিটার গভীরে খননকাজ পরিচালনার জন্য চীনের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের’ (সিসিডিসি) সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তিবদ্ধ চীনা প্রতিষ্ঠানটি কূপ খনন এবং রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণের দায়িত্ব পালন করবে। বর্তমানে তারা কুমিল্লায় ড্রিলিংয়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও রিগ স্থানান্তর করে মোবারকপুরে আনা হবে।
উল্লেখ্য, সরকার এবার উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মনোযোগ দিয়েছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত এক হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন মেগা প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই ‘মোবারকপুর ডিপ-১’। এ প্রকল্পে সরকার ৯০৯ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এবং বাপেক্স নিজস্ব তহবিল থেকে ২২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা জোগান দিচ্ছে।
সুজানগর ইউএনও মীর রাশেদুজ্জামান রাসেদ বলেন, ছয় একর জমি বাপেক্সকে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাক্কলিত সময়ের মধ্যে জমি উন্নয়ন শেষ হলে খনন ত্বরান্বিত হবে।







