
কুমিল্লার মুরাদনগরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল ও শোডাউনের প্রস্তুতির অভিযোগে ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের লাজৈর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরো চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— সাদ্দাম হোসেন (২৬), সরোয়ার (১৯), সরোয়ার হোসেন রাকিব (৩০), আনিস মিয়া (৩২), মোস্তফা সরকার (৩৩), আরিফুর রহমান সরকার (৪৫), মহসিন (২৫), ইয়াছিন (২৮), জজ মিয়া (৪৫), শরীফ মিয়া (৩০), সোহেল মিয়া (৪৫), শাহ আলম (৬৩), জাহাঙ্গীর আলম (৬১), আলমাস উদ্দিন মেম্বার (৫৭) ও আব্দুস সাদেক (৬৯)। তাদের বাড়ি মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল ও শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
মুরাদনগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে পিএসআই রাজু বড়ুয়ার নেতৃত্বে এসআই মো: আরকানুল ইসলাম, এএসআই কুসুম বড়ুয়াসহ পুলিশের একটি দল লাজৈর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে ব্লেসিং এগ্রোভেট কারখানার সামনে থেকে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তদন্তে আরো চারজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাদেরও গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, মিছিল ও শোডাউনের মাধ্যমে জনমনে ভীতি সৃষ্টি এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে পুলিশের এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
এ ঘটনায় ৩৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরো ২০-৩০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম, মিছিল-শোডাউন কিংবা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির কোনো প্রচেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







