
তথ্য জগতের সাথে সম্পৃক্ত সুধীজন বাংলাদেশের ঘটনাবহুল ইতিহাসের পর্যবেক্ষকবৃন্দ, প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের অনেকে সমাজের চলমান সঙ্কটগুলোর প্রতি নিবিড় দৃষ্টি রাখছেন। তাদের অভিজ্ঞানসঞ্জাত ধারণা— বাংলাদেশের নতুন সরকার ও তার নেতার ওপর একের পর এক চ্যালেঞ্জ ছুটে আসছে। এমন দুর্বিপাক শুধু বাংলাদেশ নয়, তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশ বা সরকারের ওপর কখনো পাহাড়সম সমস্যা হয়ে হাজির ছিল না। যদিও জমে থাকা সমস্যাগুলোর বেশির ভাগ উত্তরাধিকার সূত্রে তাদের ঘাড়ে চেপেছে। শুধু এ অভিযোগ তুললেই কি এর সমাধান আসবে। প্রশাসনে একটি কথা চলমান, ধারাবাহিকতা। অর্থাৎ পূর্বসূরির সব দায় উত্তরসূরিকে বহন করতে হয়। এটিই রেওয়াজ। সে কারণে নতুন সরকারকে এক ভয়ঙ্কর অতীত অতিক্রম করতে হচ্ছে বটে, তবে সেটা ঘাড় থেকে সরানো সম্ভব না। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ এবং সমাধান দেয়া, শুধু সরকারের জন্য অনিবার্য নয়। দেশ ও জাতি সব কষ্টের সুষ্ঠু সামধানের অপেক্ষায় আছে। একই সাথে এসব সঙ্কটের সমাধান করা, সরকারের সক্ষমতার বিরাট এক পরীক্ষা।
সমস্যা মোকাবেলায় সরকারের বড় শক্তি জনগণ। যারা বিপুল ভোটে নতুন সরকারকে জয় দিয়েছেন। প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা, যোগ্য দক্ষ ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক নির্বাহীদের উপস্থিতি। সাথে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনায় একটি পরীক্ষিত বিরোধী দলেরও দরকার। কিন্তু ইতোমধ্যে অভিযোগ উঠেছে সরকারের কিছু অযোগ্য অবিশ্বস্ত রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক নির্বাহীকে নিয়ে। অভিযোগের সত্যাসত্য অনুসন্ধান এবং দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মধ্যেই বিজ্ঞতার পরিচয়।
স্মরণযোগ্য যে, এসব চ্যালেঞ্জ নিয়ে এখন কথা বলা জরুরি। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের প্রত্যাশা যেমন বেড়েছে। তেমনই সরকারের সামনে জমছে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ।
প্রথমত, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা, কর্মসংস্থানের সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতা— সব মিলিয়ে নতুন সরকারের সামনে কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। দেশ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা এবং নিরাপত্তার বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছে। তাৎক্ষণিক বা নিকট ভবিষ্যতের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে— অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তোলা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক সহিংসতা, হত্যা, সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা এবং সামাজিক অপরাধ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয় সরাসরি সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন, তাৎক্ষণিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাহিনীগুলোর শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই তাদের কাজ সম্পন্ন হলো, এমন মনে করার কারণ নেই। তাদের কাছে থেকে দৃশ্যমান ও অর্থবহ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন জনগণ। অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করাই বাহিনীগুলোর আসল কাজ।
পুলিশ প্রশাসন এখনো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়। বিশেষ করে দক্ষতার অভাব দূর করাসহ চেইন অব কমান্ড রেস্টোর করতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও শাস্তির আওতায় আনা, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও মাদককারবারির বিরুদ্ধে প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করাও অপরিহার্য।
এসব পুঞ্জীভূত সমস্যা কোনোভাবে উপেক্ষা করা যাবে না। সমস্যাগুলো সমাধানের না হলে, সরকারকে চড়ামূল্য দিতে হবে। এমন পরিস্থিতি বজায় থাকলে, মানুষের মনে অনাস্থাজনিত ভীতি সৃষ্টি হবে। ময়দানে বহু খেলোয়াড় এখন অপেক্ষায়, যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে অভ্যস্ত।
বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষকে এখন সরাসরি আঘাত করছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, মাছ, গোশত, সবজি, ওষুধ এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ প্রচণ্ড আর্থিক চাপে। যা ইতোমধ্যে মাত্রা ছাড়িয়েছে। এতে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের হতাশা তৈরি হতে পারে। তাই বাজার ব্যবস্থাপনা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি। মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যে দুষ্টচক্র ও মধ্যস্বত্বভোগীদের অবস্থান, তাকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের চেষ্টার সাথে কৃত্রিম সঙ্কটের প্রতি নজরদারি জোরদার করতে হবে সরকারকে। কৃষক ও উৎপাদক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারিত করাও প্রয়োজন। সরকারের সবচেয়ে বড় ও জটিল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার। বিনিয়োগ কমে যাওয়া, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং রাজস্ব আদায়ের সীমাবদ্ধতা অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে। পূর্ববর্তী সরকারের উন্নয়নের নামে তথাকথিত মেগাপ্রকল্পগুলো পর্যালোচনা সাপেক্ষ অর্থ ছাড় দেয়াই হবে এখন বুদ্ধিমানের কাজ। প্রকৃতপক্ষে এসব প্রকল্প ছিল জনগণের অর্থ লোপাটের নিমিত্ত মাত্র।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে ব্যাংক খাত সংস্কার, কর আদায় বৃদ্ধি, আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে পরিবেশ তৈরি করা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের শিল্প, কৃষি ও নাগরিক জীবন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভরতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। কল-কারখানা চালু রাখা, সার কারখানাগুলো সচল করা, গোটা বিদ্যুৎ পরিস্থিতিজনিত সমস্যাগুলো অবিলম্বে দূর করার পদক্ষেপ বর্তমান সরকারকে নিতে হবে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এলএনজির উচ্চমূল্য শিল্প উৎপাদন ও সরকারি বাজেটে চাপ বাড়াচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে, এর নেতিবাচক প্রভাব নানামুখী হতে বাধ্য। বিকল্প হিসাবে রোদের কিরণ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা এসেছে, সেসব প্রকল্প অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবি রাখে। এই সৌরবিদ্যুৎ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
নির্বাচনের পর সরকার গঠন করাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার শেষ ধাপ নয়, তা প্রমাণিত হয়েছে। বরং সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ দায়িত্ব সরকারের একার নয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের, এটা উপলব্ধি এবং অনুশীলনে যেতে হবে। সবাই জানেন, আইন অনিয়মকে হ্রাস করে বটে। তবে সে বিধান শুধু কেতাবে নয়, তার প্রয়োগেই সাফল্য। গণমাধ্যমকে বিধির শেকলে বেঁধে রাখা ঠিক নয়। তাহলে সরকার ও জনগণ উভয়ই তথ্যের ধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্ধকারে থাকবে। তথ্যের অপব্যবহার সমাজকে বিশৃঙ্খল করে তোলে। তাই অপতথ্যের অপব্যবহার কঠোরহস্তে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এড়িয়ে চলা। সংসদকে কার্যকর করা, গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা— সব পক্ষকে এগুলোর যথার্থ্য অনুশীলন করতে হবে। যে গণতন্ত্র এতকাল নির্বাসনে ছিল, তার দেহ এখনো ক্ষত-বিক্ষত এর পরিচর্যা প্রয়োজন। এজন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আসন্ন নির্বাচন গণতন্ত্রের বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখতে হবে।
দুর্নীতি, রাজনৈতিক মামলা, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচার বিভাগের ওপর আস্থার সঙ্কট নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, তদন্ত ও প্রসিকিউশন ব্যবস্থার সংস্কার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। স্বাধীন বিচার শুধু সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে না। রাজনীতিবিদরাও এর দ্বারা উপকৃত হবেন।
তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের বড় সম্পদ। কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে এই জনসংখ্যা অর্থনৈতিক শক্তির পরিবর্তে নতুন সামাজিক চাপ তৈরি করবে। এটি দেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার কারণ হতে পারে। সব হাত কর্মীর হাতে পরিণত করার কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়া সরকারের এখনই সময়। শিক্ষিত বেকার শুধু ব্যক্তিজীবন তছনছ করে না, রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর সুষ্ঠু সমাধান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নির্ভর করে দক্ষ মানবসম্পদ ও সুস্থ জনগোষ্ঠীর ওপর।
দীর্ঘমেয়াদি বা নিকট ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা ভবিষ্যতে আরো বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সরকারকে এখন থেকে জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা নিতে হবে। উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করতে হবে। নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ করতে হবে। নগর বন্যা মোকাবেলায় কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে হবে। সংবিধানে এসব ব্যাপারে গুরুত্বরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য এবং পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সীমান্ত, পানি বণ্টন, বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক আস্থার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সরকারকে আবেগনির্ভর নয়, জাতীয় স্বার্থভিত্তিক বাস্তববাদী কূটনীতি অনুসরণ করতে হবে। পূর্বের নীতি পরিপূর্ণ দূরে রাখতে হবে। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক অংশীদার। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রফতানি, শ্রম অধিকার, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশের শ্রমবাজার এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট ও কূটনৈতিক সমীকরণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বিষয় নয়; রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন করা। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগও বটে।
নিকট ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। আর অনতিদূর ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য সরকারকে মোকাবেলা করতে হবে। তা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— সরকার যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে; তাহলে সঙ্কটগুলোর উন্নয়নের সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব। কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজন, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তাই নতুন সরকারের সাফল্যের মূল পরীক্ষা হবে জনগণের জীবনযাত্রায় বাস্তব পরিবর্তন আনা এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করা। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বলয়ে স্বয়ংভর দেশ হিসাবে পরিচিতি ও সম্মান পাবে কি না তার ওপর নির্ভর করবে।
শেষ কথা হলো, এখন ‘বন্ধু দেশ’ অপতথ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তার একটি জবাব দেয়া জরুরি। তবে অপতথ্যের জবাব হবে সঠিক তথ্য দিয়ে এবং সম্মিলিতভাবে, সমস্বরে। অপতথ্যের যুদ্ধটা খাটো করে দেখার অবকাশ নেই।
লেখক : সম্পাদক, নয়া দিগন্ত
ndigantababar@gmail.com







