কুকুর
কুকুরের কামড়ে আহত বৃদ্ধ নয়া দিগন্ত

কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও আবাসিক এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও রাস্তাঘাটে দলবদ্ধ কুকুরের আনাগোনা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে মডেল থানা, প্রধান ডাকঘর ও আশপাশের এলাকায় কুকুরের উপদ্রবে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া মডেল থানা জামে মসজিদে নামাজ শেষে ছেলের বাসায় যাওয়ার পথে কিরণ টাওয়ারের সামনে কুকুরের কামড়ে আহত হন কুমারখালীর চাঁদ আলী। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। একই সময়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আরো অন্তত ১০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। অধিকাংশ আহত ব্যক্তি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ইকবাল হাসান জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে প্রধান ডাকঘর ও থানা মোড় এলাকা থেকে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত মোট ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকি ১০ জনকে ভ্যাকসিন দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। 

কুষ্টিয়া মডেল থানা জামে মসজিদের ইমাম মুফতি নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘রাস্তায় চলার পথে এক এক জায়গায় ১৫-২০টি কুকুর দলবদ্ধভাবে থাকে। এ নিয়ে আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। পাঞ্জাবি বা লম্বা জামা পরিহিত কাউকে দেখলে তার পেছনে পেছনে আট-দশটি কুকুর চলে যায়। আমরা ফজরের নামাজে আসার সময়ও আতঙ্কিত থাকি।’ 

স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের পাশাপাশি রাতেও বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় দলবদ্ধ কুকুরের আনাগোনা দেখা যায়। এতে শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ভোরে মসজিদে যাওয়া এবং সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার সময় অনেকে আতঙ্কে থাকেন। 

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি ও মানুষের ওপর কুকুরের আক্রমণ প্রসঙ্গে পৌর প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘পরিবেশবাদী সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠনের হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের কারণে কুকুর নিধন কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কুকুরের উপদ্রব ও কামড়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় পৌর কর্তৃপক্ষ ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছে। কোনো ব্যক্তি কুকুরের কামড়ের শিকার হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্যাকসিন গ্রহণের মাধ্যমে যেন সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে পারেন এবং জীবন রক্ষা করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
 
একদিনে ১১ জন কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ও মানবিক পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

তাদের মতে, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।