
পরিবারের অজান্তে স্ব-ইচ্ছায় কেরানীগঞ্জ থেকে মাওয়ায় ঘুরতে আসে ১০-১১ বছরের চার শিশু। সাথে ২০০ টাকা নিয়ে কেরানীগঞ্জের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তেঘরিয়া রেলস্টেশন থেকে টিকিট কেটে নতুন চালু হওয়া ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনে করে মাওয়া চলে আসে তারা।
মাওয়া-শিমুলিয়া এলাকা ঘোরাঘুরির পর টাকা শেষ হওয়ায় এবং একপর্যায়ে সন্ধ্যা নামলে পথ হারিয়ে ফেলে তারা। তবে হারিয়ে যাওয়া ওই চার শিশুকে উদ্ধার করে রাতের মধ্যেই পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পদ্মা সেতু (উত্তর) থানা পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জ স্ট্যান্ড বাজার এলাকা থেকে চার শিশু ২০০ টাকা সাথে নিয়ে বাবা-মার অজ্ঞাতে তেঘরিয়া রেলস্টেশনে আসে। সেখান থেকে ট্রেনের টিকিট কিনে মাওয়া রেলস্টেশনে নেমে মাওয়া ঘাটে ঘুরতে যায় তারা।
এদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে টাকা শেষ হয়ে গেলে ও পথ হারিয়ে বাসায় ফিরতে না পেরে লৌহজং উপজেলার মাওয়া-লৌহজং সড়কের চন্দ্রেরবাড়ী বাজার এলাকায় শুরু হয় শিশুদের কান্নাকাটি। এ সময় স্থানীয় এক অটোচালক পথিমধ্যে শিশুদের কান্নাকাটি দেখে বিষয়টি পদ্মা সেতু উত্তর থানায় অবগত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পদ্মা সেতু উত্তর থানা পুলিশ ওই চার শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একপর্যায়ে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া চার শিশু হলো— দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন বাসস্ট্যান্ড বাজার এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে রাব্বি (১০), মো: হানিফের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (১১), রিয়াজুল ইসলামের জমজ দুই ছেলে হাসান (১১) ও হোসাইন (১১)।
এদিকে শিশুদের ফিরে পেয়ে এক স্বজন স্বস্তি প্রকাশ করে জানান, শিশুদের হারানোর পর ওই সময় তাদের পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে পাগলপ্রায় হয়ে যায়। পুলিশের এমন উদ্যোগে শিশুদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ায় এলাকাবাসী ও স্বজনরা স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছে।







