
ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে ১৮ জন বাংলাদেশী নারী-পুরুষ ও শিশুকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে ১৮ জনকে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা ১৮ জন দেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা, নরসিংদী, বরিশাল, যশোর, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কালীগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা।
ফেরত আসা ১৮ জন হলেন— সিয়াম হাওলাদার (১৪), নিউটন কুমার (১৮), জয় কুমার (১৭), আঞ্জু বেগম (৩৫), শাপলা খাতুন (২২), সাকিবুল সরদার (৬), আব্দুর রহমান (১৫), স্বপন জোহা (৬), শাহীন মোল্লা (৮), লিমা বালাভ (১৬), সুমি খাতুন (১২), পপি রায় (১৫), সনি আক্তার (১৪), সালমান (১), জান্নাতি খাতুন (১২), ইশারত জাহান শ্রাবণী (১৪), বাসন্তী রায় (১৬) ও মেহেদী হাসান (১৫)।
এর মধ্যে নিখোঁজের ১৫ বছর পর ৩৫ বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী আঞ্জু বেগমকেও দেশে ফেরত আনা হয়েছে। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের জোসনা বেগমের মেয়ে। আঞ্জু বেগম মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায় ১৫ বছর আগে নিখোঁজ হন এবং সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যান।
২০১৭ সালে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার খোঁজ মেলে এবং পরে তাকে কলকাতার মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘ঈশ্বর সংকল্প’-এর আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকার বনানী রোটারি ক্লাবের সদস্য মো: শামসুল হুদার প্রচেষ্টায় আঞ্জু বেগমকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ও পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধবিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
ফেরত আসা বাংলাদেশীরা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। তারা পশ্চিমবঙ্গের ধ্রুবআশ্রম, চিনি, সংকল্প, কিশলয়া, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রম, এস এম এম হোম, সুকন্যা হোম, শহীদ বন্দনা বালিকা স্মৃতি আবাস, সুবায়ন হোমের হেফাজতে ছিল। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব যাচাইপূর্বক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে তাদের ফিরিয়ে আনা হলো।
কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় ইউএনও, উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে উদ্ধারকৃত নারী-পুরুষ ও শিশুদের হস্তান্তর করে। এছাড়াও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ ও ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, ট্রাভেল পারমিটে ফেরত আসা বাংলাদেশী নারী-পুরুষ ও শিশুদের কার্যক্রম শেষে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।







