গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেসা, অধ্যক্ষের অপসারণ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি, অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ, লালবাগে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ
অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। সংগৃহীত

রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবিতে গভীর রাতেও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষোভ ও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর রাত ১টার দিকেও তাদের কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিল হোসেন বলেন, অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেসাকে অপসারণের দাবিতে সকাল থেকেই অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানায়। পরে রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ কলেজের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

Advertisement

ওসি বলেন, কোনো একটি অনুষ্ঠান গভীর রাত পর্যন্ত চলার কারণে দুইজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কলেজের ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে আসছিলেন।

তিনি আরো জানান, এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা দিনভর অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে রাত ২টা ১০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন করে রাতের মতো কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা। একইসাথে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে তামান্না ইসলাম বলেন, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দাবি আদায়ে আবারো কর্মসূচি পালন করবেন তারা। তবে শুক্রবারের নিয়োগ পরীক্ষার সময় আন্দোলন স্থগিত রাখবেন এবং পরীক্ষা শেষে আবার কর্মসূচি শুরু করবেন।

এর আগে শিক্ষার্থী শম্পা আখতার অভিযোগ করেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজের অধ্যক্ষ দুই ছাত্রীর সিট বাতিল করেছেন। পূজার আগে কলেজের অডিটোরিয়ামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শেষ করতে না পারায় দুই শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করা হয়।

শম্পা আখতার বলেন, পরে ক্ষমা চাইলেও অধ্যক্ষ তাদের কাছে অডিটোরিয়ামের বিল বাবদ সাড়ে ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। শিক্ষার্থী হিসেবে এত টাকা দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। রাতে অধ্যক্ষ পুলিশ এনে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মিথ্যাচার করছেন। রাত ১০টার অনুষ্ঠান ভোর ৫টায় শেষ করায় তাদের শাস্তি দেয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইলে তিনি তাদের প্রতি নমনীয় হন।

অধ্যক্ষ আরো বলেন, কলেজের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে হবে।

অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবিগুলো হলো-
১. শুক্রবার ক্যাম্পাসে সরকারি কোনো পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
২. ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা পুলিশ সদস্যদের শোকজ করতে হবে।
৩. অধ্যক্ষ পদত্যাগের লিখিত পত্র না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখতে হবে।
৪. হামলাকে বৈধতা দিয়েছেন—এমন শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।