মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিতের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন
মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিতের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন। নয়া দিগন্ত

সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য বন্ধ এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিতের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও ছাত্রশক্তি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে জকসুর এবং দেড়টার দিকে ভাস্কর্য চত্বরে ছাত্রশক্তির উদ্যোগে পৃথকভাবে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে জবি ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘তরুণদের চাকরির বাজারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা বৈষম্য মেনে নেয়া হবে না। সরকারকে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসন করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।’ সরকারকে তার মেয়াদে জনকল্যাণ ও শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ থাকবে। ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও বৈষম্য বন্ধ করে শিক্ষকসহ সব সরকারি নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রধান মানদণ্ড করতে হবে।’

জকসুর মানববন্ধনে জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফসল হিসেবেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় না রেখে সরকার দেশের সার্বিক ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল ভাঙচুর, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।’

জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘সরকারের শিক্ষা খাতে অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে আজকের এ মানববন্ধন। এনটিআরসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিকে ক্ষমতা দেয়া, ভাইভায় অতিরিক্ত নম্বর এবং নতুন পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্ড চালুর মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক পরিচয় বা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণের মতো বিষয় বিবেচনা করে কাউকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে কি-না, তা স্পষ্ট করতে হবে।’ দেশের বিভিন্ন জেলার দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর নিয়োগ বাতিলের কারণ দ্রুত প্রকাশের দাবিও জানান তিনি।

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে সরকার গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও পরে ভাইভা ও ভেরিফিকেশনের নামে নতুন করে নিয়োগ বাণিজ্যের চেষ্টা করা হয়েছে।’ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে থাকা প্রার্থীদের বাদ দেয়া হচ্ছে কি-না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থী ও জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না। সরকারকে শিক্ষার্থী ও জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মানববন্ধনে জকসু ও ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।