গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী, আইটিইটি
দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি) অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী। নয়া দিগন্ত

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় পোশাকশিল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। সরকার, শিল্পমালিক ও প্রকৌশলীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এ অগ্রযাত্রা আরো বেগবান করা সম্ভব।’ 

Advertisement

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবে সন্ধ্যা ৭টার দিকে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের পেশাজীবী সংগঠন দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ১৫তম কেন্দ্রীয় পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম বলেন, ‘আইটিইটি সত্যিকার অর্থেই যেন এই কার্যনির্বাহী কমিটি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ, দলীয়করণের ঊর্ধ্বে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কার্যকরী কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি বলব সময় এসেছে সত্য প্রমাণ করার-‘দল-মত যার যার, আইটিইটি আমাদের সবার।’আইটিইটি এমন হবে যেখানে এখানকার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মিনিংফুল মেম্বারশিপ নিশ্চিত করা যাবে। এই আইটিইটিতে নির্বাচিত সদস্যদের সাথে তাদের সৎ, নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের সাথে যারা নির্বাচিত হয়নি তাদেরও শুধু গঠনমূলক আলোচনা নয়, গঠনমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’

এছাড়া তিনি টেক্সটাইল গবেষণার জন্য আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন যেখান থেকে জ্বালানি দক্ষতা, অটোমেশন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও টেকসই উৎপাদনে গবেষণায় সহায়তা দেয়া যেতে পারে। জাতীয় টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যান্ড এক্সিলেন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং নীতিনির্ধারণে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য স্বতন্ত্র বিসিএস ক্যাডার চালুর বিষয়েও সরকারের প্রতি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দেশের রফতানিতে বড় অবদান রাখছে। বিদেশে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা গেলে দূতাবাসগুলোকে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। একজন রাষ্ট্রদূত শুধু সরকারি প্রতিনিধি নন, দেশের একজন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।’

পাশাপাশি কারখানায় মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে আইটিইটি'র সভাপতি প্রকৌশলী মো: এনায়েত হোসেন বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর কমার্সিয়াল উইং-এ টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেয়া হোক। বিদেশের মাটিতে একজন টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ থাকলে ক্রেতাদের সাথে টেকনিক্যাল বোঝাপড়া, চাহিদা অনুযায়ী গার্মেন্টস প্রোডাকশন নিশ্চিত করা এবং দেশের কারখানার সাথে কার্যকর লিয়াজোঁ রক্ষা করা অনেক সহজ হবে। গত ২৬ জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা আমার পুরো প্যানেলকে বিজয়ী করেছেন এবং আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করে যে ঋণে আবদ্ধ করেছেন, তার জন্য আমি চির কৃতজ্ঞ।আমি বিশ্বাস করি, আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির ২৭ জন দক্ষ ও পরীক্ষিত কর্মীকে সাথে নিয়ে আমরা আপনাদের একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, কার্যকর ও সদস্য বান্ধব নতুন আইটিইটি উপহার দিতে পারব।’

বক্তারা দেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের উন্নয়ন, টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইটিইটি'র সভাপতি প্রকৌশলী মো: এনায়েত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরো ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী শোয়েব বাশরী হাবলু, রাজউক চেয়ারম্যান ও আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী এটিএম সামসু উদ্দীন খান।

এছাড়া আইটিইটি'র কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতারা, বিভিন্ন পর্যায়ের টেক্সটাইল প্রকৌশলী, সংগঠনের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।