রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হল
শহীদ শামসুজ্জোহা হল ছবি: নয়া দিগন্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এক শিক্ষার্থীকে রাতভর হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি দাবি করেছে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল। ঘটনায় হল প্রভোস্টের পদত্যাগসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে শিবির। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই শিক্ষার্থীকে শিবিরের হয়ে ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ অভিযোগ করেছে হল ছাত্রদল।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বৈঠকে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকে হল থেকে বের করা, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, হেনস্তার শিকার শিক্ষার্থীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ ও তার চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্তের ঘটনায় হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আসিফ গণিত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, মোবাইল ফোন চেক করে তাকে ‘শিবিরের স্পাই’ আখ্যা দিয়ে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ, হেনস্তা ও মারধর করা হয়।

শিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘২৪-এর পূর্ববর্তী সময়ে শিবির ট্যাগ দিয়ে যাদের মারধর করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই সাধারণ শিক্ষার্থী ছিল। এখানেও সেরকম ট্যাগিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। হলের কক্ষে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন কোনোভাবেই টর্চার সেলের পরিবেশ তৈরি না হয়।’

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ অস্বীকার করেন জোহা হল ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক সবুজ শাহরিয়ার। ফুয়াদ দাবি করেন, আসিফ নিজেই ছাত্রদলে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তার দেয়া মোবাইল ফোনে হল শিবিরের সভাপতি রাশানের সাথে কথোপকথন পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন তিনি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আসিফকে ব্যবহার করে ছাত্রদলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ফুয়াদ।

শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সবুজ শাহরিয়ার বলেন, ‘তাকে আমরা মারধর করিনি। সে নিজেই ভিডিওতে স্বীকার করেছে, তাকে কেউ মারধর করেনি।’

রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘আমি হল ছাত্রদলের সভাপতিকে নির্দেশ দিয়েছিলাম, কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে। যত রাতই হোক, তাকে হল প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। অন্যায়ের বিচার করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, তোমাদের নয়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা আপনাদের দাবিগুলো শুনলাম। ঘটনার প্রকৃত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করেছে। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। প্রকৃত ঘটনা জেনে পরে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারব।’