
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এনসিপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, দুর্ভাগ্য আমাদের, সবার সহযোগিতা করার কথা থাকলেও আমরা তা পাচ্ছি না। এমন সব মানুষরা এমন সব কথা বলে যাচ্ছেন, এটা হাস্যকর, হাস্যকর! পাঁচ-ছয়টা আসন পেয়েছে যারা, তারা যদি ২১৪টা আসন পাওয়া একটা দলকে বলে যে কোনো সময় নাকি তার আসন কেড়ে নিতে পারে! রসিকতারও একটা সীমা থাকা দরকার। মুখ থাকলেই সব কথা বলা যায়? অনুরোধ করব সবাইকে- রাজনীতিতে অনেকেই নবীন আছেন, তাদের ভবিষ্যৎ আছে। তারা যুক্তিবাদী হন, তারা জনগণের পক্ষে থাকুন, কল্যাণকর পরিবেশ সৃষ্টি করুন; জনগণ তাদের সমর্থন করবে। ভবিষ্যতে তাদের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু নিছক বিরোধিতায় কোনো আনন্দও নেই, কোনো সুবিধাও হবে না। তাই আমাদের কমন শত্রু যারা, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকুন।
শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আপসহীন লড়াইয়ের কারণে এবং জনগণের পক্ষে থাকার কারণে এদেশের জনগণ বারবার বিএনপিকে পুরস্কৃত করেছে, সম্মানিত করেছে। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করা হয়েছিল। ‘বাকশাল’ নামক একটি মাত্র দল করে বাকি সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই বাকশালের স্বৈরশাসনের ধ্বংসস্তূপের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছিলেন প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে জবাই করেছে, আর বিএনপি গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুধু গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন যতবার যেভাবে বিপন্ন হয়েছে, বিপর্যস্ত হয়েছে, সেই অর্থনীতিকে পুনরায় জনগণের কল্যাণে উন্নত করার দায়িত্ব বিএনপিকে পালন করতে হয়েছে। এবারো তারেক রহমান যখন দায়িত্ব নিলেন, ভাবতে হবে আমাদের দেশের অর্থনীতির অবস্থা কী ছিল। মাথাপিছু কত লাখ টাকা ঋণের বোঝা আমাদের নাগরিকদের ঘাড়ে! কত লক্ষ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে, দুর্নীতি করা হয়েছে, বিদেশে পাচার করা হয়েছে, দেশকে নিঃস্ব করে দেয়া হয়েছে! এই অবস্থায় দায়িত্ব নিয়ে পুনরায় দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরো বলেন, যারা একসাথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করলাম, দেশে জনগণের শাসন কায়েমের ব্যবস্থা দিলাম, আমরা তাদের সবার সহযোগিতা চেয়েছিলাম। আশা করেছিলাম সবার সক্রিয় সহযোগিতা পাব। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমরা তো জানি যে যারা স্বৈরাচার ছিল, যারা সংঘাতবাদী ছিল, যাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পালিয়ে যেতে হয়েছে- তারা বিরোধিতা করবে। নির্বাচিত সরকারের তারা বিরোধিতা করবে, আমাদের সমস্ত উন্নয়ন প্রয়াসে, আমাদের জনগণের কল্যাণের কাজে বাধা সৃষ্টি করবে- এটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু অন্যরা যখন সেই কাজে এক ধরনের পরোক্ষ সহযোগিতা করে, তখন সেটা হয় দুর্ভাগ্য।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, এই দেশটা আমাদের সবার। আমরা সবাই মিলে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা সবাই মিলে বারবার এ দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের সবাই মিলে এই গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হবে, অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করতে হবে, জনগণের প্রয়োজন মেটাতে হবে এবং তাদের কষ্ট দূর করতে হবে। এই কাজটা সহজ নয়, এবং সবাই মিলে এই কাজটা করতে হবে। এর বিরোধিতা করে লাভটা কী, প্রশ্ন রাখেন তিনি।








