ফিলিপাইনের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মায়োন
ফিলিপাইনের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মায়োন। সংগৃহীত ছবি

ফিলিপাইনে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মায়োনে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ছয় মিনিট ধরে চলা এ অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরিটি থেকে হাজার হাজার মিটার উঁচুতে ছাই ও ধোঁয়ার কালো মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির রাষ্ট্রীয় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

Advertisement

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের শহর ও জনপদে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশটির আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পনবিষয়ক কর্তৃপক্ষ সতর্কতার মাত্রা শূন্য থেকে পাঁচের স্কেলে দুই থেকে বাড়িয়ে তিন করেছে। একইসাথে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের ছয় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভোলক্স) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্রায় তিন হাজার মিটার (প্রায় ১০ হাজার ফুট) উঁচুতে ছাইয়ের বিশাল স্তম্ভ তৈরি হয়। পরে বাতাসের প্রবাহে তা ধীরে ধীরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে আশপাশের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাউন্ট মায়োনে নতুন করে ভূগর্ভস্থ গলিত শিলা বা ম্যাগমা থেকে সৃষ্ট অগ্ন্যুৎপাতের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ফলে আগামী কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আগ্নেয়গিরির ঢালের ওপরের ও মাঝামাঝি অংশ দিয়ে লাভা প্রবাহিত হওয়া এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তপ্ত গ্যাস, ছাই ও পাথরের দ্রুতগতির স্রোত নেমে আসার আশঙ্কা বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনকে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারণ সেখান থেকে লাভা, উত্তপ্ত গ্যাস ও ছাইয়ের স্রোত, পাথর গড়িয়ে পড়াসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়গিরিজনিত বিপর্যয় ঘটতে পারে। একইসাথে উড়োজাহাজগুলোকে আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি দিয়ে চলাচল না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দুই হাজার ৪৬২ মিটার (প্রায় আট হাজার ফুট) উঁচু মাউন্ট মায়োনে ফিলিপাইনের রাজধানী মানিলা থেকে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। প্রায় নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির এ আগ্নেয়গিরিটি দেশটির অন্যতম পরিচিত ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। চলতি বছর ফিলিপাইনের তিনটি আগ্নেয়গিরিতে অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে ২০২৩ সালের জুনে মাউন্ট মায়োনের ঢালের নিচের অংশে বসবাসকারী ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। সে সময় আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে ছাই ও বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিবলয়ের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এ অঞ্চলে ভূত্বকের বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির তৎপরতা সৃষ্টি হয়।

সাম্প্রতিক কয়েক দশকে ফিলিপাইনের সবচেয়ে শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে ১৯৯১ সালে মাউন্ট পিনাতুবোতে। ওই অগ্ন্যুৎপাতে ৮০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। এ সময় সৃষ্ট ছাইয়ের বিশাল মেঘ হাজার হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।

সূত্র : বাসস