
মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলের বন্যাকবলিত এলাকায় পৌঁছতে উদ্ধারকর্মীরা সোমবার হিমশিম খাচ্ছেন। সেখানে বন্যায় ১০ জনের মৃত্যু হতে পারে এবং আরো ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলের সর্বশেষ অঞ্চল তানিনথারি শুক্রবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও একই তীব্র আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সপ্তাহের শেষে ব্যাংককে বন্যা দেখা দেয়।
স্বেচ্ছাসেবী দাওয়েই জাবুথিরি ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসের চেয়ারম্যান মিও মিন বলেন, তানিনথারির কয়েকটি টাউনশিপ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু গ্রামে এখন শুধু পায়ে হেঁটে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। ত্রাণকর্মীরা কয়েকশ বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে মঠের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে দেখেছেন।
তিনি আরো বলেন, এখনো হতাহতের কোনো ‘নিশ্চিত সংখ্যা’ পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক তথ্যে সাত থেকে ১০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২০ থেকে ৩০ জন।
তিনি টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, ‘উদ্ধারকর্মীরা এখনো পুরো দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি।’
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এখনো হতাহতের কোনো সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করেনি। দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে ত্রাণ কার্যক্রমও জটিল হয়ে পড়েছে।
সংঘাতের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নিরূপণ করাও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে।
৫ কোটি ১০ লাখ মানুষের দেশ মিয়ানমার জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের একটি। জার্মানির অলাভজনক সংস্থা জার্মানওয়াচ এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ওয়াশিংটনের মানবিক সহায়তা বাজেট ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মিয়ানমারে ত্রাণ সহায়তাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
থাইল্যান্ডে প্রায় ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর সপ্তাহের শেষে রাজধানী ব্যাংককে বন্যা দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়।
ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ হাজার ৯০০ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫২ হাজার পরিবার।
সূত্র : বাসস








