
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর কি আবার ফিরবে স্কিনি জিনস, পেঁচার ছবিযুক্ত গলার হার, গোঁফের নকশা আর হাততালি ও পা ঠুকে গাওয়া গান?
গত মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিপুল জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘মিলেনিয়াল আশাবাদ’।
অতীতের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এ প্রবণতায় ফিরে দেখা হচ্ছে ২০০০-এর দশকের শেষভাগ ও ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকের আশা ও সরলতামাখা সময়কে।
‘মিলেনিয়াল আশাবাদ’ নিয়ে তৈরি ভিডিও ও পোস্টগুলো লাখ লাখ মানুষের নজর কাড়ছে। এসব পোস্টে সহস্রাব্দ প্রজন্মের তরুণ বয়সের জনপ্রিয় পোশাক, গান ও জীবনধারার নানা অনুষঙ্গ তুলে ধরা হচ্ছে।
জেন-জি’র অনেক সদস্যের কাছে, অর্থাৎ বর্তমানে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের কাছে, মঙ্গলবারের নির্বাচন একধরনের উচ্ছ্বাসের অনুভূতি নিয়ে এসেছে। ২০০৮ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সময় সহস্রাব্দ প্রজন্মের তরুণেরা যে উচ্ছ্বাস অনুভব করেছিলেন, এর সাথে তার মিল রয়েছে।
বর্তমানে ৩০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী সহস্রাব্দ প্রজন্মের সেই অভিজ্ঞতার সাথে এবারের নির্বাচনের বেশ কিছু মিল রয়েছে। উভয় প্রজন্মই বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং দেশে গভীর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভোট দিয়েছে।
ওবামার বিজয়ে তরুণ ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ব্যাপক ভোটের প্রবণতা দেখা গেছে।
এএফপির বিশ্লেষণে এনওআরসি সিভিক হেলথ অ্যান্ড ইলেকশনস প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটারদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের ভোট দিয়েছেন ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেয়া তরুণদের ১৬ শতাংশ এবার আইনসভা নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বেছে নিয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের দেশব্যাপী এক জরিপের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন প্রায় ৪০ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। একই বয়সী নারী ভোটারদের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধির হার ২৭ শতাংশ পয়েন্ট।
আশার সঞ্চার
২০ বছর বয়সী আলিয়া ব্যাডেলি এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের দেশে এই নতুন নীল ঢেউ আমাকে অনেক আশাবাদী করে তুলেছে।’
ওহাইওর নবনির্বাচিত গভর্নর অ্যামি অ্যাক্টন শিক্ষা এবং ডেটা সেন্টার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন বলে আশা করেন তিনি।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী ২২ বছর বয়সী ক্যালেব ভার্নসও আশাবাদের কথা বলেন। দুজনই ইউনিভার্সিটি অব অ্যাক্রনের শিক্ষার্থী।
ভার্নস বলেন, ‘এবার আমাদের অনেক কিছুই প্রথমবারের মতো ঘটেছে। যেমন, সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য এবং প্রকাশ্যে সমকামী পরিচয় দেয়া প্রথম পুরুষ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।’
তিনি মিশিগানের নবনির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল-সায়েদ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের ক্রিস পাপাসের কথা উল্লেখ করেন। মঙ্গলবারের নির্বাচনে তারা দুজনই জয়ী হয়েছেন।
কংগ্রেসের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ এবং সহস্রাব্দ প্রজন্মের সদস্য ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘একবার ভোট দিতে গিয়েই তোমরা যখন বলেছিলে, হ্যাঁ, আমরা বিশ্ব বদলে দিতে পারি, তখন গত রাতে জয় করা আসনগুলোর কথা একবার কল্পনা করো।’
আশাবাদ, নাকি অসন্তোষ?
তবে সবকিছুই আশাব্যঞ্জক নয়।
মহামারীর কারণে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হওয়া জেন-জি’র তরুণেরা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে কর্মজীবনের সুযোগের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব—সবকিছুই তাদের ভাবিয়ে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন সিভিক লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্টের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান আলবার্তো মেদিনা বলেন, ‘দুটি নির্বাচনের তুলনা করার মূল কারণ একটাই। উভয় ক্ষেত্রেই তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণে ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের জোয়ার তৈরি হয়েছে।’
তবে তার মতে, এবারের নির্বাচনী জোয়ারের পেছনে সহস্রাব্দ প্রজন্মের আশাবাদের চেয়ে জেন-জি’র অসন্তোষ বেশি কাজ করেছে।
২২ বছর বয়সী কেইডেন ফার্গুসন বলেন, ‘গত দুই বছরে আমার জীবনে কোনো কিছুরই উন্নতি হয়নি।’
তিনি ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিলেও তার পরিচিত অনেকেই ভোট দেননি বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা বিশ্বাস করে দুটি দলই দুর্নীতিগ্রস্ত।’
২৩ বছর বয়সী অ্যালিসা শিক এবারের নির্বাচনকে ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বড় ধরনের গণরায়’ হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, ‘দেশটি যে স্বস্তির অপেক্ষায় ছিল, এই নির্বাচন সেই স্বস্তি এনে দিয়েছে।’
তবে ডেমোক্র্যাটদের জেন-জি’র সমর্থনকে নিশ্চিত ধরে নেয়া উচিত হবে না।
মেদিনা বলেন, ‘তরুণ ভোটারদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তারা কোনো দল বা প্রার্থীর প্রতি স্থায়ীভাবে অনুগত নয়। ২০২৮ সালে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’
লরেন্টজ সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আমার মনে হয় যথেষ্ট কিছু করা হচ্ছে না এবং আরো পরিবর্তন প্রয়োজন, তাহলে আমিও আবার আমার অবস্থান বদলাব।’
সূত্র : এএফপি/বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








