মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে কিভাবে ১০০ আমেরিকান মুসলিম জয় পেল। সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল, রাজ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে অন্তত ৯৭ জন মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন বলে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) সূত্রে জানা গেছে।

Advertisement

গত বছর নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র পদে জোহরান মামদানির ভূমিধস বিজয় যে অন্য মুসলিমদের উৎসাহিত করতে বড় ভূমিকা রেখেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

কাউন্টিভিত্তিক গণনা ও ডাকযোগে আসা ভোট প্রক্রিয়াকরণের কারণে আরো এক ডজনেরও বেশি প্রার্থীর চূড়ান্ত ফল এখনো পাওয়া যায়নি, তবে শুক্রবার সকালের হিসাব অনুযায়ী তারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে আছেন।

Advertisement

প্রাথমিক বাছাই পর্বের (প্রাইমারি) ১৮৬ জন মুসলিম-আমেরিকান প্রার্থীর মধ্য থেকে এরা মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

ওয়াশিংটন অভিমুখে সাতজন

সাতজন মুসলিম আমেরিকান প্রতিনিধি ওয়াশিংটন ডিসিতে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে ছয়জন প্রতিনিধি পরিষদে আসন নিশ্চিত করেছেন। পুনর্নির্বাচিত চারজন হলেন—ইলহান ওমর, রাশিদা তলাইব, আন্দ্রে কার্সন এবং লাতিফাহ সাইমন। তাদের সাথে নতুন করে যোগ দিচ্ছেন অ্যাডাম হামাভি এবং দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আইশা ওয়াহাবের আসনের চূড়ান্ত ফল পাওয়া যায়নি; তিনি জয়ী হলে প্রতিনিধি পরিষদে মুসলিম সদস্যদের সংখ্যা আরো বাড়বে।

এছাড়া একজন মুসলিম আমেরিকান সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন—আবদুল আল-সাইয়িদ। সিনেটের উচ্চকক্ষে ৬ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম মুসলিম হবেন তিনি।

সিএআইআর-এর তথ্যানুযায়ী, রাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আরো ৩৯ জন মুসলিম আমেরিকান বিজয়ী হয়েছেন, যার মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল থেকে শুরু করে স্টেট লেজিসলেচার ও স্টেট সিনেটের আসন রয়েছে।

কাউন্টি ও পৌরসভায় ১৬ জন এবং এডুকেশন ও স্কুল বোর্ডে ২৭ জন মুসলিম আমেরিকান জয়লাভ করেছেন। বিচারক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আটজন।

মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমপ্যাক), সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসও) এবং ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং (আইএসপিইউ)-এর মতো সংস্থাগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে (বিশেষ করে রিপাবলিকানদের মধ্যে) যখন মুসলিমবিরোধী মনোভাব ও মন্তব্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, ঠিক তখনই তারা এই ঐতিহাসিক রেকর্ড তৈরি করলেন।

দলের চেয়ে নীতির প্রাধান্য

যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ (প্রায় ৫৫ লাখ) মুসলিম। কিন্তু তা সত্ত্বেও মিডিয়ায় তাদের নিয়ে অতিমাত্রায় কড়াকড়ি এবং অনলাইনে হামলার শিকার হতে হয়।

‘এমপ্যাক’ নির্বাচনের আগেই সতর্ক করেছিল যে ভোটারদের ভয় দেখানোর নানা কৌশলের কারণে অনেক মুসলিম আমেরিকান ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। তবে বাস্তবে গত এক বছরে মুসলিম ভোটার নিবন্ধনের হার অন্তত ২৫ শতাংশ বেড়েছে এবং একটি জরিপে দেখা গেছে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৯৩ শতাংশ।

সিএআইআর-এর জরিপ বলছে, ৮০ শতাংশ মুসলিম ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের ভোট দিয়েছেন মাত্র ৬ শতাংশ। এনবিসি-এর বুথফেরত জরিপ আরো নির্দেশ করে যে, বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন।

তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালে আইএসপিইউ-এর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০ শতাংশের বেশি মুসলিম ডেমোক্র্যাটদের ছেড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, কারণ তিনি যুদ্ধ বন্ধ করা ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অদলীয় সংস্থা ‘জর্জিয়া ভোটার প্রজেক্ট’-এর যোগাযোগ পরিচালক উরুজ আলী 'মিডল ইস্ট আই'-কে বলেন, 'আমাদের মাঠপর্যায়ের কাজ থেকে আমরা দেখেছি যে, মুসলিমরা কোনো নির্দিষ্ট দলের চেয়ে নীতি বিবেচনা করে ভোট দিতে পছন্দ করেন। তাই তাদের একটি বড় অংশ নিজেদের ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান না ভেবে স্বতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দেন।'

আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের জর্জিয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্যুইং স্টেট (দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য)। সেখানে দুজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং একজন ডেমোক্র্যাট গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন, যিনি ওই রাজ্যের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর।

উরুজ আলী জানান, 'জর্জিয়ায় এবার আগাম ভোটে মধ্যবর্তী নির্বাচনের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। এই নির্বাচনে প্রায় ৩০ হাজার মুসলিম আগাম ভোট দিয়েছেন। যেখানে ২০২২ সালে নির্বাচনের দিনসহ মোট ৩৬ হাজার মুসলিম ভোট দিয়েছিলেন।'

যে চারজন হিজাব পরিহিত মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন, জর্জিয়ার রুওয়া রোমান তাদের একজন।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকদের আগে থেকেই নিবন্ধিত হতে হয়। তবে মিশিগানের মতো কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোটের দিনই নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।

প্রতিরোধ ও আত্মবিশ্বাস

গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় একাধিক ভবনে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি, ইলিনয়ে হিজাবি নারীদের গুলি করার হুমকি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মসজিদে গোলাগুলিতে নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার মতো বেশ কয়েকটি ইসলামফোবিক ঘটনা ঘটেছে।

সিএসও তাদের ৩৬ পৃষ্ঠার 'ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য মুসলিম থ্রেট' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই মসজিদে ওই গুলির ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে রিপাবলিকান নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ১,১১১টি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ৮টি বিল এবং ৬২ সদস্যের একটি সংসদীয় ককাসের মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত মুসলিমবিরোধী প্রচারণা চালিয়েছিলেন, যা সহিংসতায় উস্কানি দেওয়ার সামিল।

সিএআইআর-এর জরিপ অনুসারে, ইসলামফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ এবার মুসলিম ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে টানতে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে; ৭০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে ইসলামবিদ্বেষ তাদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

আইএসপিইউ-এর ন্যাশনাল আমেরিকান ইসলামোফোবিয়া ইনডেক্স অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিদ্বেষের সূচক ২৫ পয়েন্টে থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিক্যাল (১৫ পয়েন্ট), ক্যাথলিক (১২ পয়েন্ট) এবং ইহুদিদের (১১ পয়েন্ট) মধ্যে এই বিদ্বেষ বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি।

তবে এসব ঘটনা মুসলিমদের পিছিয়ে দিতে পারেনি। ট্রাম্পের রিলিজিয়াস লিবার্টিজ কমিশনের উপদেষ্টা বোর্ড থেকে পদত্যাগ করা সামিরা মুন্সি মিডল ইস্ট আই-কে বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মুসলিমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সাহসী ও প্রতিবাদী।

তিনি বলেন, 'আমি মূলত জেন-জি প্রজন্মের। তাই ৯/১১-পরবর্তী কঠিন সময় আমি পুরোপুরি দেখিনি। আমাদের এ প্রজন্মটি ওই হতাশার মধ্য দিয়ে যায়নি, যা আগের বয়স্ক মুসলিমরা অনুভব করেছিলেন। আর এই বিষয়টিই বর্তমান প্রজন্মকে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।'

মুন্সি আরো জোর দিয়ে বলেন, গত তিন বছরে জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে ইসরাইল-বান্ধব এবং ফিলিস্তিন-বিরোধী বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে, তা মুসলিম আমেরিকানদের আরো শক্ত অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেছে।

সিএআইআর-এর জরিপ মতে, ৭৬ শতাংশ ভোটার গাজা ও ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারের বিষয়টিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং ৮০ শতাংশ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বড় প্রভাব ফেলেছে।

সামিরা মুন্সি বলেন, 'টাকার কার্লসনের মতো বড় বড় মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে দেখা যাচ্ছে। মূলধারার ডেমোক্র্যাটরা ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনপন্থী ও ইসরাইল-বিরোধী প্রগতিশীলদের জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে।'

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের প্রতি তার অন্ধ সমর্থন অব্যাহত রাখা।

মূল্যবোধের রাজনীতি

সহকর্মী ক্যাথলিক সদস্যকে ফিলিস্তিনের অধিকার সমর্থনের দায়ে প্যানেল থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছিলেন মুন্সি। টেক্সাসের ডেপুটি গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক ওই সহকর্মীকে বরখাস্ত করেছিলেন। সেই ড্যান প্যাট্রিক গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে দীর্ঘ ১২ বছর পর পরাজিত হয়েছেন। প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথম ডেমোক্র্যাট ও রাজ্যের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।

লাল দুর্গ হিসেবে পরিচিত টেক্সাস রাজ্যটি এবার পুরোপুরি নীলে (ডেমোক্র্যাটদের রঙে) পরিণত হয়েছে। সেখানে উগ্র মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত সিনেটর টেড ক্রুজই একমাত্র বিজয়ী রিপাবলিকান।

খ্রিস্টান হিসেবে পরিচিত টেড ক্রুজ সিনেটে নবনির্বাচিত দুজন ডেমোক্র্যাট প্রচারককে আক্রমণ করেছেন—কারণ তারা তাদের ধর্মীয় বক্তব্যে মুসলিম ও ফিলিস্তিনিদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

তবে ক্রুজের নতুন সহকর্মী ও টেক্সাসের অপর সিনেটর জেমস তালারিকো বলেছেন, খ্রিস্টধর্মের মতোই ইসলামও 'সত্যের একটি সমান পথ'। গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে একে হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করেছেন।

একইভাবে ক্যানসাস থেকে শতবর্ষ পর নির্বাচিত প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম হ্যামিল্টন বলেছেন, বেহেশতে খ্রিস্টানদের সাথে মুসলিমদেরও সাক্ষাৎ হবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর হ্যামিল্টন এক সাক্ষাৎকারে এই সহিংসতার পেছনের মূল কারণগুলো বোঝার ওপর জোর দিয়েছিলেন।

হ্যামিল্টন, তালারিকো এবং নবনির্বাচিত সিনেটর সাইয়িদ—তারা সবাই ধর্মীয় পরিচয় আড়াল না করে বরং নিজেদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে প্রচারের মূল হাতিয়ার করেছেন।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ জামিয়া অ্যাডামস বলেন, 'যে প্রার্থীরা নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে একসূত্রে গেঁথে কথা বলেছেন, তারাই নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছেন।'

বিজয়ী বক্তব্যে সিনেটর আল-সাইয়িদ 'ইনশাআল্লাহ' ও 'আলহামদুলিল্লাহ' দিয়ে কথা শুরু করেন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারী সাইয়িদের পুরো প্রচারণাই ছিল তার ধর্মীয় মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে।

এমপ্যাক-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হারিস তারিন বলেন, 'অতীতে ডেমোক্র্যাটরা ধর্ম নিয়ে কথা বলতে ভয় পেত। কিন্তু এবার প্রমাণ হয়েছে যে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ তুলে ধরেছেন, তারা সফল হয়েছেন। আমেরিকানরা মূলত সততা ও নিজস্ব বিশ্বাসে অটল মানুষদের পছন্দ করে।'

পরিচয়ের রাজনীতি ও বাস্তবতা

মুসলিম আমেরিকানরা ইসলামফোবিয়া ও ফিলিস্তিন ইস্যুকে গুরুত্ব দিলেও, বেশিরভাগ সাধারণ আমেরিকানের মতোই তারা মূলত অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের ওপর ভিত্তি করে ভোট দিয়েছেন।

একইভাবে বিজয়ী প্রার্থীরাও তাদের মুসলিম পরিচয়কে রাজনীতির একমাত্র হাতিয়ার করেননি। যেমন মামদানি ধর্মনিরপেক্ষ প্রচারণা চালিয়েছিলেন, আবার সাইয়িদ তার ধার্মিকতাকে সামনে এনেছিলেন।

এছাড়া সব মুসলিমই যে প্রগতিশীল বা ডেমোক্র্যাট তা নয়। অ্যারিজোনা থেকে আবার নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আব সাইয়িদ একজন ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান।

'মুসলিম আমেরিকানস ইন পাবলিক সার্ভিস'-এর প্রধান আহমাদ মাতি এক বিবৃতিতে বলেন, 'আমাদের সম্প্রদায়ের সদস্যরা যেভাবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন তা অত্যন্ত গর্বের। এই জয়গুলো আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অংশগ্রহণের ফল।'

ইলিনয়ের প্রাক-বাছাই পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জুনায়েদ আহমেদ এই জয়কে বৈচিত্র্যের জয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, 'আশা করি এই হাউস ও সিনেট আমেরিকানদের দেখাবে যে 'আমেরিকা ফার্স্ট' বলতে কী বোঝায়।'

জর্জিয়া মুসলিম ভোটার প্রজেক্টের উরুজ আলী পরিশেষে বলেন, 'মুসলিম আমেরিকান হওয়া কেবল কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এটি জীবনের একটি ধারা। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আমরা সমাজকে যেভাবে পেয়েছি, তার চেয়ে সুন্দর ও উন্নত করে রেখে যাওয়া।'

সূত্র : মিডল ইস্ট আই