
স্কুল থেকে দেয়া কম্পিউটারে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আত্মহত্যা ও নিজের শেষকৃত্য নিয়ে পরিকল্পনা করার অভিযোগ উঠেছে ১৩ বছর বয়সী একজন কিশোরীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই কিশোরীর মা-বাবা।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে মামলাটি করা হয়। স্কুলে ব্যবহৃত ক্রোমবুক ল্যাপটপে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুগলের অবহেলার অভিযোগে এটিই প্রথম পরিচিত মামলা। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী কম দামের এসব ল্যাপটপ ব্যবহার করে।
মামলার নথিতে কিশোরীকে ‘এমা’ নামে পরিচয় দেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কারণে সে গুগলের জেমিনি অ্যাপ কিংবা ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে পারতো না। তবে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের সুযোগ ছিল তার। এই সার্চ ইঞ্জিনে এআই-চালিত বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চলতি সপ্তাহে গুগল যেসব এআই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সার্চ ইঞ্জিনের এই সুবিধাগুলো ছিল না।
কিশোরীর পরিবারের আইনজীবী অ্যান্ড্রু লিডেল বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘গুগল সার্চ থেকে এআই মোড সরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত অথবা এআইয়ের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত স্কুলগুলোর উচিত সার্চ সুবিধা বন্ধ রাখা।’
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তর ক্যারোলাইনার বাসিন্দা এমা ছিল হাসিখুশি ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী। পড়াশোনায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সে সংগীতচর্চা করত এবং গার্ল স্কাউটসের কার্যক্রমেও অংশ নিত।
তার আগে কোনো মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস ছিল না বলেও দাবি করেছে পরিবার। কিন্তু স্কুলের ল্যাপটপে গুগলের এআই-চালিত সার্চ সুবিধা ব্যবহারের কয়েক মাসের মধ্যেই সে ধীরে ধীরে গুরুতর মানসিক সঙ্কটের মধ্যে পড়ে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১৭ মার্চ স্কুলের নজরদারি সফটওয়্যারে ‘ফিউনারেল’ (শেষকৃত্য) শিরোনামের একটি নথি শনাক্ত হয়। বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ তার মা-বাবাকে জানায়।
এরপর মেয়ের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে তার মা দেখতে পান, এমা তখনই একটি বিদায়পত্র লিখছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার বাবা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন।
গুগলের মুখপাত্র হোসে কাস্তানেদা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা মামলার অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করছি এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি।’
গুগলের দাবি, তাদের এআই মোডে আত্মহত্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে এবং এসব ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা ঠেকানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তবে পরিবারের আইনজীবী লিডেল বলেন, ‘এমা বারবার একই কাজে ফিরে যেতে পেরেছে। গুগল যে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকার কথা বলছে, তা যে যথেষ্ট ছিল না, সেটি স্পষ্ট।’
দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের একাধিক মামলা হচ্ছে।
ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধেও অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বছর বয়সী কিশোর অ্যাডাম রেইনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা-বাবার করা মামলাও রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে পাওয়া আত্মহত্যার পদ্ধতি-সংক্রান্ত পরামর্শ ব্যবহার করেছিল ওই কিশোর।
এছাড়া গত জানুয়ারিতে গুগল ও প্রযুক্তি স্টার্টআপ ক্যারেক্টারডটএআই কয়েকটি কিশোরের পরিবারের করা মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়।
এদিকে, বুধবার গুগল, টিকটক ও মেটা পৃথকভাবে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি তৈরি করতে পারে— এমন ফিচার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া নতুন আইনটি কার্যকর হওয়া ঠেকাতেই প্রতিষ্ঠানগুলো আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম গত সেপ্টেম্বরে আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








