
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে তার একটি চুক্তি হয়েছে, যার অধীনে চলতি বছরের শেষের পর থেকে ওয়াশিংটন আর ইসরাইলকে কোনো আর্থিক অনুদান বা তহবিল প্রদান করবে না।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর পর ফক্স নিউজ-এর 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস' অনুষ্ঠানকে ট্রাম্প বলেন, ‘এখন ইসরাইলকে অর্থ প্রদানের বিষয়ে বলতে গেলে—বিবি নেতানিয়াহু এবং আমি একটি চুক্তি করেছি যে আমরা ইসরাইলকে প্রতি বছর ৪ বিলিয়ন ডলার দেই, আর আমরা কয়েক মাস আগেই চুক্তি করেছি যে আমরা তা বন্ধ করে দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই একমত হয়েছি যে এই বছরের শেষের মধ্যে আমরা ইসরাইলকে আর অর্থ প্রদান করব না। তবে প্রয়োজন হলে আমরা ইসরাইলকে সহায়তা করব।’
ট্রাম্প ঠিক কোন ধরনের সহায়তার কথা বলছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
ট্রাম্প তার যুক্তির পক্ষে মিশিগানের সিনেট প্রার্থী আব্দুল আল-সাইয়িদের কথা উল্লেখ করেন, যিনি ইসরাইলকে মার্কিন সমর্থনের একজন সোচ্চার সমালোচক।
ট্রাম্প বলেন, ‘আল-সায়েদের মতো উগ্রপন্থীদের কটূক্তি কেন আমরা সহ্য করব, যখন তাদের এর প্রয়োজনই নেই? এটি একটি বাজে, এটি একটি বাজে রাজনৈতিক ইস্যু।’ তিনি আরো যোগ করেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং থেকেই এই সহায়তা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি জানান, ‘(আপনার সাথে কি আমি খোলামেলা কথা বলব?) নেতানিয়াহু নিজেই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন ‘আমি মনে করি আমরা যদি সহায়তা না পাই, তবে তা উপযুক্ত হবে’, কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন যে এটি তাদের অন্যতম একটি বিরোধের বিষয়।’
আল জাজিরার পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকেও এই পদক্ষেপের কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সংবেদনশীল ও আলোচিত ইস্যু
হোয়াইট হাউস থেকে প্রতিবেদন পরিবেশন করার সময় আল জাজিরার কিম্বারলি হ্যালকেট একে ‘নভেম্বরের সারপ্রাইজ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এই পদক্ষেপের পেছনে এমন একটি ইচ্ছার কথা উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে একদিকে আব্দুল আল-সাইয়িদের মতো প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট এবং অন্যদিকে তার নিজের ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের সমালোচকদের কাছ থেকে ইসরাইল নীতি নিয়ে আসা সমালোচনা এড়ানো সম্ভব হয়।
তিনি আরো যোগ করেন, ‘তবে লক্ষ্য করার মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।’ এই অর্থ কংগ্রেস কর্তৃক বরাদ্দকৃত, তাই ট্রাম্প এককভাবে এই সহায়তা বন্ধ করতে পারেন না। এটি ভোট পাওয়ার শেষ মুহূর্তের কোনো প্রচেষ্টা নাকি একটি বাস্তবভিত্তিক পরিবর্তন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এ বছর ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেয়া এবং ইসরাইলের সমর্থকদের পক্ষ থেকে মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণায় অনুদান প্রদান করা—উভয় বিষয়ই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয়ের জন্যই একটি সংবেদনশীল ও উত্তপ্ত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৩ সালে ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলের প্রতি সাধারণ মার্কিন জনগণের সমর্থন কমেছে, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই পতন বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জুনের একটি জরিপে দেখা গেছে যে, ৪ শতাংশ ভোটার এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট বিশ্বাস করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে, যা ২০১৭ সালে একই প্রশ্ন করার সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ১৬ শতাংশ এবং ২০ শতাংশ বেশি।
ফলাফল বদলাবে না
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে ইসরাইল সম্পর্কে কঠোর ও জনসমক্ষে করা সমালোচনা কয়েক দশক ধরে চলে আসা দ্বিপক্ষীয় জোরালো সমর্থনের ধারায় একটি নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
গত জুলাই মাসে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইসরাইলের সহায়তা বন্ধ করার একটি সংশোধনী প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পরাজিত হয়। এটি গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধের কারণে মার্কিন প্রগতিশীল এবং ইসরাইলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ফাটলকেই প্রতিফলিত করে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির একজন সোচ্চার রিপাবলিকান সমালোচক এবং বিদায়ী প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি পররাষ্ট্র দফতরের ব্যয় বিলে একটি সংশোধনী হিসেবে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন। হাউসে ৩১৪ বনাম ১০৪ ভোটে প্রস্তাবটি পরাজিত হয়।
অন্য এক ট্রাম্পবিরোধী, সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান মার্জরি টেলর গ্রিন এক্স-এ লিখেছেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের মুখে পড়ার উপক্রম হওয়াটা কতটা অদ্ভুতভাবে মানুষের মন ও হৃদয় পরিবর্তন করে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘ইসরাইলকে বার্ষিক সহায়তা বন্ধ করতে ট্রাম্পের নেতানিয়াহুর অনুমতি নেওয়া আজকের নির্বাচনের ফলাফল বদলাতে যাচ্ছে না।’
সূত্র : আল জাজিরা
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








