আগের নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্র
আগের নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্র। সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীর নামের সাথে মিল রেখে একই নামের এক ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর অভিযোগ তদন্তে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকার। 

Advertisement

তদন্তের অংশ হিসেবে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আলাস্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আগামী মঙ্গলবারের (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ঘোষণা দেয়া হলো। এদিকে, নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল খারাপ ফল করতে পারে— এমন ধারণার মধ্যে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

শুক্রবার আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি মাইকেল হেইম্যান বলেন, ‘প্রতিটি আলাস্কাবাসীরই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তারা তা পাবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনার দেয়া ভোট যেন আপনার ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী গণনা করা হয়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। আমার এক পাশে রয়েছে আলাস্কা স্টেট ট্রুপার্স ও অন্য পাশে এফবিআই।’

হেইম্যান জানান, এ ঘটনায় একইসাথে ফৌজদারি ও দেওয়ানি— দুই ধরনের তদন্ত চলছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত অভিযোগের পর তদন্তে নতুন গতি আসে। 

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী মেরি পেল্টোলার সহযোগীরা গোপনে কয়েকজন বিকল্প প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। তাদের মধ্যে ড্যান সুলিভান নামের একজনও রয়েছেন, যার নাম রিপাবলিকান দলের বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের নামের সাথে মিলে যায়।

হেইম্যান বলেন, ‘নতুন এই তথ্যের কারণে আলাস্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য আমার দফতরের কয়েকজন আইনজীবীকেও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেল্টোলার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রার্থী দাঁড় করানোর কৌশল সাধারণত আইনত বৈধ। আলাস্কায় অতীতেও ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান— উভয় দলই এ কৌশল ব্যবহার করেছে।

জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়া, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত সুবিধা নেয়ার অভিযোগ এবং ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির কারণে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। 

এর ফলে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি সিনেটের নিয়ন্ত্রণও দলটির হাতছাড়া হতে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আলাস্কার নির্বাচনের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি তদন্তে মার্কিন সরকার দাবি করছে, ভোটার তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন— এমন ১০ হাজার ব্যক্তির নাম রয়েছে।

তবে বিভিন্ন গবেষণায় বারবার দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত কম। বিশেষ করে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেয়ার ঘটনা খুবই বিরল। 

এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলে না বলেও গবেষণাগুলোতে উঠে এসেছে।

সূত্র : বাসস