মাদক-শেইনবাম-ট্রাম্প-জাতিসঙ্ঘ
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম আনদোলু

মাদক ব্যবহারের উচ্চহার রয়েছে এমন একটি দেশের পাশে বসবাস করা খুবই কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকোকে মাদক কারবারি চক্রের কর্মকাণ্ডের ‘কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করার পর বুধবার এ মন্তব্য করেন তিনি।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জানায়, মেক্সিকো সিটির সকালে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাব দেন শেইনবাম। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারতাম, এত বেশি অবৈধ মাদক ব্যবহার হয় এমন একটি দেশের পাশে বসবাস করা খুবই কঠিন। অথবা বলতে পারতাম, এত বিপুল অস্ত্র উৎপাদন করে এমন একটি দেশের পাশে বসবাস করাও খুবই কঠিন। কিন্তু আমি তা বলব না।’

মেক্সিকোর ভূখণ্ডে মাদক কারবারি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে দেশটিতে হস্তক্ষেপের জন্য বারবার চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক সরবরাহ করা এসব অপরাধী গোষ্ঠী মেক্সিকোয় ব্যাপক ক্ষমতা ধরে রেখেছে।

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণেও ট্রাম্প মেক্সিকোর সমালোচনা করেন। দেশটিকে তিনি মাদক কারবারি চক্রের সহিংসতার ‘কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

নিরাপত্তা ইস্যুতে ট্রাম্পের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চাইছে শেইনবাম প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন মোরেনা পার্টির কয়েকজন কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণের দাবিও। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তারা মাদক পাচারের সাথে জড়িত।

শেইনবাম বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত। তবে একই সাথে মেক্সিকোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প আবার হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকে তার প্রশাসন এই অবস্থানই ধরে রেখেছে।

শেইনবাম বলেন, ‘আমি তা বলব না। কেন? কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তাই আমরা সমন্বয় করে কাজ করছি এবং অগ্রগতিও হচ্ছে।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের (ডিইএ) প্রশাসক টেরি কোল মেক্সিকো সরকার ও দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওমর গার্সিয়া হারফুচের মাদক পাচারবিরোধী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। আগস্টে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সম্মেলনে (আইডিইসি) তিনি হারফুচকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।