
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাম্প ডেভিডে তার সপ্তাহান্তের অবস্থান সংক্ষিপ্ত করে শনিবার রাতে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু (২০ সেপ্টেম্বর) জানায়, হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের কর্মসূচি সংশোধন করে দেখিয়েছে, তিনি মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে করে ওয়াশিংটনে ফিরবেন। স্থানীয় সময় রাত ৭টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৫টা) প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টারটি এলিপসে অবতরণের কথা ছিল। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদক জোয়ি গ্যারিসন প্রেস পুলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান। তবে ট্রাম্পের কর্মসূচি পরিবর্তনের কোনো কারণ জানানো হয়নি।
এর আগে শনিবার ক্যাম্প ডেভিডের কাছে মেরিল্যান্ডের থারমন্ট এলাকার ওপর দিয়ে একটি সাধারণ বিমান চলাচলের বিমান নির্ধারিত বিধিনিষেধযুক্ত আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে। নোরাডের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিমানটিকে আটক করে। পরে সেটিকে নিরাপদে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।
ফার্স্ট এয়ার ফোর্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় মাটিতে থাকা মানুষের জন্য কোনো বিপদ তৈরি হয়নি। একইসাথে ট্রাম্প কিংবা প্রেসিডেন্টের অবকাশকেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডের জন্যও কোনো হুমকির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের কর্মসূচি পরিবর্তনের খবর এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অঞ্চলটিতে এবং অঞ্চলটির মধ্য দিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা আবারো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে দফতরটি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পররাষ্ট্র দফতরের ট্রাভেল ডট গভ অ্যাকাউন্ট জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের আরো সতর্ক থাকতে হবে। সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং অন্যান্য যাতায়াত বিঘ্নের জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
দফতরটি বলেছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো জটিল। অপ্রত্যাশিতভাবে পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আরো সতর্ক করেছে, ইরান-সমর্থিত হাউছি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এসব হামলার মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দরও রয়েছে। দফতরের ভাষায়, এই সংঘাত ‘দ্রুত আরো বড় আকার নিতে পারে’।
এ ছাড়া ইরান ও দেশটির সমর্থক গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থ, ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্র বা মার্কিন নাগরিকদের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।







