
ভবিষ্যতে ইরানের পরমাণু নীতি বদলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই। পাশাপাশি বলেছেন, ইরানের পরমাণু নীতিতে এখনই কোনো পরিবর্তন আসছে না। একইসাথে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য তেহরানের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনে আরেক দফা সংঘাতের জন্য তৈরি থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং গোটা অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত দিয়েছেন রেজাই।
আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তৌহিদ আসাদীকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রেজাই বলেন, তেহরান কূটনৈতিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জানান, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইরানে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসাথে তিনি ভাগ্য নির্ধারণী যুদ্ধের প্রস্তুতির কথাও বলেন।
দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য অন্তত তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করেন রেজাই। এর মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং গোটা অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ করা। বিশেষ করে ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রেজাই বলেন, ইরান সর্বোচ্চ নেতার ফতোয়ার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশটির পরমাণু নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে ভবিষ্যতে এই নীতি বদলের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে জানান রেজাই। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।
সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তায় ভরা পরিস্থিতিতে রেজাইয়ের বক্তব্যে দৃঢ়তার বার্তা পাওয়া গেছে। কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য প্রস্তুতির কথা বলার পাশাপাশি আবারো সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকার অবস্থানও তুলে ধরেছেন তিনি।







