
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভারত থেকে আমদানীকৃত ভুট্টাবীজ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন গোডাউন সিলগালা করে বীজের নমুনা সংগ্রহ করে জেলা পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় উপজেলার সাধারণ কৃষকদের ব্যানারে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শহরের চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধনের ডাক দেয়া হয়।
জানা গেছে, পাটগ্রাম পৌর শহরের বিজেতা সীডস (প্রা:) লিমিটেড নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বুড়িমারী স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের চ্যাংড়াবান্ধায় গুহা ইন্টারন্যাশনাল নামে এক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিটি ৫০ কেজির বস্তায় ৬০ মেট্রিক টন ভুট্টাবীজ আমদানি করে। এর মধ্যে ৫ মেট্রিক টন ভুট্টাবীজ আমদানিকারক আগেই বিক্রি করে দেন। বাকী ৫৫ মেট্রিক টন ভুট্টা শহরের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে কালিমন্দিরের পাশে একটি গোডাউনে সংরক্ষণ করেন।
গত শনিবার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ‘বাহুবলী ৫৫৫’ সহ বিভিন্ন মোড়কে প্যাকেটজাত করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিশাল দাশ অভিযান চালান।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, সন্দেহজনক ও প্রক্রিয়াবহির্ভূতভাবে ভুট্টাবীজ প্যাকেটজাত করার কারণে গোডাউনটি সিলগালা করা হয়েছে। আমদানীকৃত বীজের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং বীজ পরীক্ষা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কৃষি বিভাগের এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, সরকারি বিধিমালা ও বীজ আমদানির নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ না করে এভাবে বীজ আমদানি করার কোনো সুযোগ নেই।
শহরের এক সার-বীজ ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভারতের হায়দ্রাবাদে দেখেছি সেখানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভুট্টাবীজ প্যাকেটজাত করা হয়। যারা প্যাকেটজাত করে তাদের মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস থাকে। যে গোডাউনে বীজ সংরক্ষণ করা হয় সেই গোডাউনের আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয়। জীবাণুমুক্ত করা ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। কিন্তু এখানে যে গোডাউনে প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল সেসবের কিছুই নেই।’
উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের এক কৃষক তার আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, ‘গত বছর বাহুবলী ভুট্টাবীজ কিনে ভালো ফলন পাইনি। আমরা ভালো মানের বীজ চাই। কোনো প্রকার নকল বীজ কিনে আমরা যাতে প্রতারিত না হই সেই নিশ্চয়তা চাই। আমরা চাই প্রশাসন যাতে এ ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’
এই বীজ কিনে প্রতারিত হওয়ার আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে হাতীবান্ধা উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে। নার্গিস নাহার নামে এক নারী কৃষক কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আমি মানুষের ১২ দোন জমি কন্ট্রাক্ট নিয়ে বাহুবলী ৫৫৫ ভুট্টাবীজ ২৪ প্যাকেট লাগাই। কিন্তু কোনো বীজ গজায়নি।’ তার মতো আরো অনেক কৃষক একই অভিযোগ করেছেন।’
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা শামীমুর রহমান বলেন, ‘সংগৃহীত ভুট্টাবীজের নমুনা রংপুর জেলা আঞ্চলিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। রেজাল্ট আসতে আট-দশ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর সবকিছু জানা যাবে।’
এদিকে বিজেতা কোম্পানির নকল ভুট্টাবীজ, সার এবং কীটনাশক বিক্রির অভিযোগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে সর্বস্তরের সাধারণ কৃষক। ফলে মৌসুম শুরুর আগে সার, বীজ ও কীটনাশক নিয়ে সাধারণ কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








