
সাধারণ শ্রমিক হিসেবে ভাগ্য অন্বেষণে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন সাতক্ষীরার হাসান আলী। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও মেধার মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আইন গ্রুপ অব কোম্পানি। মালয়েশিয়ার শিল্প ও অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় দেশটির রাজার কাছ থেকে বাংলাদেশীদের জন্য বিরল সম্মানসূচক ‘দাতোক সেরী’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন তিনি। প্রবাসে সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন এই শিল্পপতি।
সংগ্রাম থেকে সাফল্য, আর সাফল্য থেকে দেশ-বিদেশে মানবসেবায় আত্মনিয়োগ—হাসান আলীর জীবনসংগ্রামের গল্প এমনই। সাতক্ষীরার একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া হাসান আলী ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সাধারণ শ্রমিক হিসেবে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে হাড়ভাঙা পরিশ্রম, সততা ও মেধার মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য।
বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার আইন গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ কমিউনিটির উপদেষ্টা। আদম ব্যবসার পরিবর্তে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। আমদানি-রফতানি, কুটিরশিল্প, মৎস্য খামার ও সবজির বাগানসহ বিভিন্ন খাতে তার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য বাংলাদেশী ও মালয়েশীয় কর্মী কাজ করছেন।
মালয়েশিয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দেশটির অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় হাসান আলী মালয়েশিয়ার রাজার কাছ থেকে বাংলাদেশীদের জন্য বিরল সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ‘দাতোক সেরী’ উপাধি পেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দেশটির নাগরিকত্বও লাভ করেছেন।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন হাসান আলী। দুই দেশে ইসলাম ও দ্বীনের আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি একের পর এক মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে কুয়ালালামপুর থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসেন তিনি। নিজ এলাকায় বেকার তরুণদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি হতদরিদ্র নারী-পুরুষকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ এবং গাভি ও ছাগল বিতরণও করছেন।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথেও নিবিড়ভাবে যুক্ত হাসান আলী। প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশীদের ঐক্যবদ্ধ করা, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী শিক্ষার প্রসারে কাজ করছেন তিনি। এ লক্ষ্যে ইসলামি স্কলার ও শায়খদের অংশগ্রহণে নিয়মিত ইসলামি সম্মেলনের আয়োজন করেন।
জীবনসংগ্রাম, ব্যবসায়িক সাফল্য ও মানবসেবায় যুক্ত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান আলী বলেন, ‘শূন্য হাতে কঠোর পরিশ্রম করে যখন সাফল্য পেতে শুরু করেছি, তখন নিজের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় অংশ রেখে বাকিটা দান করতে শুরু করি। এরপর দেখেছি, যা দান করি, তার কয়েক গুণ কোনো না কোনোভাবে লাভজনক হিসেবে আমার কাছে ফিরে আসে। দানেই ধন, মান-সম্মান ও সুখ-শান্তি বাড়ে—এ কথা কোরআন-হাদিসের আলোকে পরীক্ষিত।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








