শাহীন মণ্ডল মিঠাপুকুর (রংপুর)
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনটি ব্যাপক আলোচিত আসন। আসনটিতে বিএনপির পক্ষে মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মনোনয়ন পেয়েছেন রংপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। বিএনপি-জামায়াতের ঘোষিত দুই প্রার্থীর নামই গোলাম রব্বানী। আবার দু’জনই অধ্যাপক। আলোচিত দুই প্রার্থীর নাম, পদবি মিলে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচনা রয়েছে।
অন্য দিকে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের জোয়ারের পাশাপাশি, লাঙ্গলের অবস্থান কম নয়। জাতীয় পার্টির পক্ষে নির্বাচনে লড়বেন এস এম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর। সে হিসেবে এ বারের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ও জাতীয় পর্টির ত্রিমুখী লড়ায় হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে বিএনপি ও জামায়াতের দুই রব্বানীর মধ্যেই লড়াই সীমাবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা ভোটাররা।
সরেজমিন দেখা যায়, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্য দিকে আগেভাগে একক প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী মাঠে প্রচার প্রচারণায় অন্য দলের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন দলটি। এদিকে এক সময়ে আসনটিতে শক্ত ঘাঁটি ছিল জাতীয় পার্টির। মাঝে কোণঠাসা হলেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় দলটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মাঠে তাদের কর্মীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন সমানতালে। তাই আসনটিতে এবার উৎসবের আমেজে ভোটের মাঠে লড়াই হবে তিন দলের প্রার্থীদের।
উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের হাট-বাজার ও মোড়ের চায়ের দোকান সর্বত্রই দুই গোলাম রব্বানী আর এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরকে নিয়ে আলোচনা। কে হবেন আগামীর সংসদ সদস্য। ব্যক্তিগত ইমেজ ও দলের সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষায় কে শেষ হাসি হাসবেন, তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ।
বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি বাবু মিয়া বলেন, জাহাঙ্গীর একজন সৎ ও ত্যাগী নেতা। তৃণমূলে তার জনপ্রিয়তা অনেক। তাকে বাদ দিয়ে জয়ের হিসেব কোনো মতেই সঠিক হবে না। উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সুজন মাহমুদ বলেন, একজন ত্যাগী ও তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয় নেতা অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোটারদের নিকট ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তারই জয় হবে। সাবেক ছাত্রশিবির নেতা হাফিজুর রহমান বলেন, ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। এই প্রতীকে অধ্যাপক গোলাম রব্বানী নির্বাচনী মাঠে আছেন। মানুষ তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রাজারাম গ্রামের মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, এবার যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবো। যিনি গণমানুষের পক্ষে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারবেন।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) এই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ ও নারী ভোটার দুই লাখ ৩২ হাজার ৪৬৪ জন। এ ছাড়াও হিজড়া ভোটার রয়েছেন চারজন। ১৫২টি ভোটকেন্দ্রের ৯১৪টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। এবার নারী ভোটারদের সংখ্যা এবার বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই নারী ভোটার। নারী ভোটাররাই ভোটের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে।
জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও আমরা জয়ী হয়েছিলাম, যখন মানুষ তাদের মুক্ত চিন্তার কথা বলতে পারেননি। মানুষ এখন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে পারছে। মানুষের পাশে থেকে ইনসাফভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের প্রত্যেক কর্মী ও সমর্থক ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের দোয়া ও সমর্থন পাচ্ছে। আমাদের পক্ষে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, আমাদের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।
বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, একটি দল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। তারা পরকালের ভয় দেখিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে। মানুষ বুঝতে পারছে, এসবই ধোঁকাবাজি ছাড়া কিছু নয়। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর বলেন, এ এলাকার মানুষের মূল সেøাগান- পল্লীবন্ধু এইচ এম এরশাদের প্রতীক ‘লাঙ্গল’। আমি যেখানেই যাচ্ছি, অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হলে আমরা জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী।



