শেরপুরে বিরল প্রজাতির কাছিম উদ্ধার
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ কাছিমটি উদ্ধার করেন। নয়া দিগন্ত

শেরপুর একটি বিরল প্রজাতির ধুম কাছিম উদ্ধার করে নিরাপদ জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়েছে। 

Advertisement

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার দিকপাড়া গ্রামের মো: দুলাল উদ্দিনের বড়ি থেকে কাছিমটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের দিকপাড়া গ্রামের শেরপুর-জামালপুর সড়কের পাশের আমতলী বাজারের একটি দোকানের পেছনে কাছিমটি দেখতে পায় স্থানীয় মো: দুলাল উদ্দিনের ছেলে মো: সাইদুর রহমান সিয়াম। পরে তিনি কাছিমটি উদ্ধার করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। 

খবর পেয়ে, শেরপুর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে যান। পরে, শেরপুর প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন্দের নির্বাহী পরিচালক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো: মুগনিউর রহমান মনির সহায়তায় দুলাল উদ্দিনের বড়ি থেকে কাছিমটি উদ্ধার করেন। পরে সেটিকে নিরাপদ জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়।

শেরপুরের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো: আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, উদ্ধার হওয়া ধুম কাছিমটির ইংরেজি নাম পিকক মার্কড সফটশেল টার্টল। এরা নিশাচর, জলচর ও কম আক্রমণাত্মক স্বভাবের। এরা শামুক, কেঁচো, চিংড়ি, মাছ, ব্যাঙ, মরা-পচা প্রাণী, কীটপতঙ্গের লার্ভা ও জলজ উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। নদী, হ্রদ, পুকুর ও খাদ হলো এদের প্রধান আবাস। এদের রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।

শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার জানান, দেশে কচ্ছপের বেশ কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে, তবে নানা কারণে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬-এর তফসিল ১ (খ) অনুযায়ী কচ্ছপ একটি সংরক্ষিত প্রাণী। তাই এর শিকার, হত্যা বা যেকোনো ধরনের ক্ষতিসাধন করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।