
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক হিজাব ও নিক্বাব পরিহিত নারী শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে কটাক্ষ এবং সন্ত্রাসী অপবাদ দেয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি।
তিনি বলেছেন, এই ধরনের আচরণ নারীর পোশাকের স্বাধীনতাকে প্রত্যক্ষভাবে বাধাগ্রস্ত করে এবং দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয়।
প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু এমপি প্রেরিত এক বিবৃতিতে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি জানান, গত ৭ অক্টোবর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুব ক্লাসরুমে উক্ত ছাত্রীকে লক্ষ্য করে কটু মন্তব্য করেন। সেসময় তাকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করা হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নিজ নিজ ধর্মচর্চা করা এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ যখন ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে সামনের দিকে এগোচ্ছে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্থানে প্রগতিশীলতার দোহাই দিয়ে হিজাব ও নিক্বাব বিদ্বেষের কোনো সুযোগ থাকতে পারে না। অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষকের মন্তব্য তার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও হিজাবোফোবিয়ারই বহিঃপ্রকাশ।
জামায়াত নেত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এখনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির ধারক-বাহকেরা বহাল তবিয়তে আছে। এই হীন মানসিকতার আচরণের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষককে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন সাহস না পায়, তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি জোড় দাবি জানানো হয়।
একইসাথে, সহপাঠীর ওপর এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদী অবস্থানকে তিনি আন্তরিক সাধুবাদ জানান। সবশেষে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








