
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সময়মতো সার না পাওয়ার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। দুই ঘণ্টা বিক্ষোভের পর উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মনিরহাট এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে ছেড়ে আসা এবং স্থলবন্দরগামী যানবাহনগুলো আটকা পড়ে। সড়কের দুই প্রান্তে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে আলু, ভুট্টা, গম, বাদাম, পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদ শুরু করার জন্য জমি প্রস্তুত করতে হচ্ছে। এ সময়ে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে সার পাওয়ার কথা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না মেলায় অনেক কৃষককে খোলাবাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সেখানে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে গিয়ে তাদের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
উত্তর পারুলিয়ার কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আট একর জমিতে আলু চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছি না। সময়মতো সার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে চড়া দামে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।’
আরেক কৃষক আব্দুস সাত্তার জানান, কৃষি কার্ড না থাকায় তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে সার সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে তাকেও বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ এবং প্রকৃত কৃষকদের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র। তিনি আন্দোলনরত কৃষকদের সাথে কথা বলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি কার্ড জমা নিয়ে প্রত্যেককে এক বস্তা করে সার সরবরাহের আশ্বাস দেন। ইউএনওর আশ্বাসের পর কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।
ইউএনও দীপ জন মিত্র বলেন, ‘উপজেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। সার বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।’
অবরোধ প্রত্যাহারের পর মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে, মৌসুমের শুরুতে সময়মতো সার না পাওয়ায় আগামী ফসলের আবাদ ও বর্ধিত উৎপাদন ব্যয় নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মনে উদ্বেগ কাটছে না।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








