যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, নারী ক্রীড়াবিদ
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক। সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো ধরনের হয়রানি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়। এক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া কমিটি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণ এবং সারাদেশে পর্যায়ক্রমে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

Advertisement

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো: আবুল খায়ের ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন, অ্যাডভোকেট মো: জালাল উদ্দীন, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, মো: ফজলে হুদা, কামরুজ্জামান কামরুল, আলফারুক আব্দুল লতীফ, শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ) এবং মো: আতাউর রহমান অংশগ্রহণ করেন।

কমিটির সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২)’-এর প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে।

যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং তাদের ক্রীড়া ও কর্মমুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বেকার নারী-পুরুষকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবছর নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করার জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে।

বৈঠকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার সাথে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একইসাথে বিভিন্ন নির্মাণকাজে ঠিকাদাররা যাতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে যথাযথ নজরদারি ও মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর কমিটির সদস্যদের পরিচিতি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দফতর-সংস্থাসগুলোর প্রধানদের সাথে কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দফতর বা সংস্থাসগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এ সময় সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কেও কমিটিকে অবহিত করা হয়।

কমিটির সভাপতি স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসাথে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতাকেও গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং আন্দোলনে আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবগণ, বিভিন্ন সংস্থা ও অধিদফতরের প্রধানগণ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস