
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
অতীতের মতো এখনো বাংলাদেশে কদর বিদেশী কোচদের। এক সময় বাংলাদেশী কোচদের বিদেশে তেমন কোনো কদর ছিল না। কিন্তু সময় পাল্টিয়েছে। লাল-সবুজের দেশের কোচরা এখন দাপটের সাথে বিদেশের ক্লাবে এবং জাতীয় দলে কাজ করছেন। সাফল্যও এনে দিচ্ছেন। ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যারচারি, টেনিসে বাংলাদেশী কোচরা পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কলম্বিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও চীনে কাজ করেছেন ও করছেন। মালদ্বীপেও এখন দুইজন বাংলাদেশী কোচ কাজ করছেন। এরা হ্যান্ডবল কোচ। তাদের একজন আমজাদ হোসেন। অন্য জন নাসিরউদ্দিন লাভলু। অল্প কয়দিন হলো লাভলু মালদ্বীপে গেছেন। আর আমজাদের এই ১১৯২ দ্বীপের দেশে কাজ করাটা সেই ২০১৫ সাল থেকে। মালদ্বীপ জাতীয় দলের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি এখন উকুলাস দ্বীপের হ্যান্ডবল অ্যাকাডেমি গড়েছেন। সেখানেই প্রায় শ’ খানেক বালিকা ও নারীকে হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এই আমজাদ হয়ে গেছেন মালদ্বীপ হ্যান্ডবলের পথিকৃৎ। তার হাত ধরেই দেশটির হ্যান্ডবলের যাত্রা শুরু। আগামী এসএ গেমসেই পকদের ফাইট দেবে দেশটি জানান আমজাদ।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড় ছিলেন আমজাদ। ২০০০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলে খেলেছেন। ২০০০ সালে দক্ষিণ এশিয়ান হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ দলের সদস্য ছিলেন। আর ২০১০ সালের ঢাকা এসএ গেমসে ব্রোঞ্জ জয়ী দলের সদস্য তিনি। হ্যান্ডবল খেলার পর বিভিন্ন কোচিং কোর্স করেছেন। এই কোর্সগুলো করার সুবাদেই তিনি মালদ্বীপ জাতীয় দলের হেড কোচের পদে কাজ করার সুযোগ পান।
খেলোয়াড়ী জীবনে কোনো সার্ভিসেস দলে চাকরি করেননি। খেলা ছড়ার পরেও না। রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্কুলের ছাত্র এই আমজাদ পুরোপুরি সিভিলিয়ান। জানান, আমি ২০১৫ সালে মালদ্বীপে জাতীয় দলে কাজ করার সুযোগ পাই। প্রথমে নারী দলের হেড কোচ ছিলাম। পরে নারী ও পুরুষ উভয় দলেরই।’ তার দেয়া তথ্য, ‘আমাকে বলা হয় মালদ্বীপ হ্যান্ডবলের বাবা। আমার হাত ধরেই দেশটির হ্যান্ডবলের যাত্রা শুরু। কতটুকু এগিয়েছে মালদ্বীপের হ্যান্ডবল সেটা দেখবেন আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য আইএইচএফ কাপ হ্যান্ডবলেই। সে সাথে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য আগামী এসএ গেমসেও পদকের লড়াই করব।’
২০১৬ সালের শিলং-গৌহাটি এসএ গেমস হ্যান্ডবলে আমজাদের গড়া মালদ্বীপ নারী হ্যান্ডবল দল অল্পের জন্য সেমিতে উঠতে পারেনি। গোল পার্থক্যে পিছিয়ে পড়ে। ২০১৯ সালের কাঠমান্ডু-পোখারা এসএ গেমসে আজমাদ ছিলেন নারী ও পুরুষ উভয় দলেরই কোচ। সেবারও মালদ্বীপ জাতীয় দলের খেলা হয়নি এসএ গেমসের সেমিতে। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মালদ্বীপ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ছিলেন তিনি। এরপর নিজেই উকুলাস দ্বীপে দুই মালদ্বীপের নাগরিককে নিয়ে গড়ে তোলেন হ্যান্ডবল অ্যাকাডেমি। নাম উখুলাস হ্যান্ডবল অ্যাকাডেমি এই উখুলাস দ্বীপ মালদ্বীপের রাজধানী মালে থেকে ৭১.৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে আলিফ আলিফ অ্যাটলের অংশ। ছোট্ট এই দ্বীপের আয়তন এক বর্গকিলোমিটার। লোক সংখ্যা এক হাজার ২০০-এর ওপরে। এই দ্বীপটিকে বলা হয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দ্বীপ। দ্বীপের পুরুষদের মধ্যে এখনো হ্যান্ডবলের চর্চা শুরু হয়নি। ফলে আমজাদের শিষ্য বলতে সবাই বালিকা ও নারী। আমজাদ জানান, আমার অ্যাকাডেমিতে অনূর্ধ্ব-৬ থেকে ৭ বছরের গ্রুপে ১৮ জন, অনূর্ধ্ব-৭ থেকে ৮ বছরের গ্রুপে ১২ জন, অনূর্ধ্ব-৮ থেকে ৯ বছরের গ্রুপে ১৭ জন, অনূর্ধ্ব-৯ থেকে ১০ জনের গ্রুপে ১৪ জন এবং অনূর্ধ্ব-১০ থেকে সিনিয়র লেভেল পর্যন্ত ৩০ এর অধিক খেলোয়াড় প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
মালদ্বীপের দ্বীপগুলোর মধ্যে হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট হয়। সেই আসরে রানার্সআপ হয়েছে এই উখুলাস দ্বীপ। আমজাদের পর এখন নাসিরউদ্দিন লাভলু মালের ফিউন্টা স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে কাজ করছেন। আরো বাংলাদেশী কোচের চাহিদা আছে বলে তথ্য দিলেন আমজাদ।
বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলেরও কোচ ছিলেন আমজাদ। ২০২২ সালে তুরস্কের কোনিয়াতে অনুষ্ঠিত ইসলামী সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশ নারী দল হারিয়েছিল আফগানিস্তানকে- সেই দলের কোচ ছিলেন এই আমজাদ।








