
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক টি-২০ র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অবস্থান ৮ ও ২৫ নম্বরে। তা ছাড়া ক্রিকেটের ঐতিহ্যগত দিক থেকেও দুই দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। যদি টি-২০তে দুই দলের খেলার সময়কালেও বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া খেলছে ২০০৬ ও ২০১৯ সাল থেকে। র্যাংকিংয়ের ব্যবধান যতই থাকুক, মাঠের লড়াইয়ে কোনো প্রতিপক্ষকেই আগেভাগে হারিয়ে দিতে রাজি নন কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রথম ম্যাচ সামনে রেখে তার ভাবনায় নেই সেমি-ফাইনাল কিংবা ফাইনালের হিসাব। আপাতত সব মনোযোগ মালয়েশিয়াকে ঘিরে।
মালয়েশিয়ার চেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ হওয়ায় সালাহউদ্দিন বেশ সাবধানী। জাপানে গতকাল সাংবাদিকদের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে কখনোই হালকাভাবে নেয়া উচিত নয়- এটা একটা চাপের ম্যাচ। কারণ, এটা নকআউট পর্বের ম্যাচ। নকআউট পর্বে সব সময়ই চাপ থাকে।’
র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা পাওয়া বাংলাদেশ আগামীকাল এশিয়ান গেমস মিশন শুরু করবে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। শক্তি, সামর্থ্য ও টি-২০ র্যাংকিং- সবদিক থেকেই এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে সেই ব্যবধানকে মাঠের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখছেন না এশিয়ান গেমসে প্রধান কোচের দায়িত্ব পাওয়া সালাহউদ্দিন। কারণ, তিন বছর আগের স্মৃতিটা খুব সুখের হলেও স্বস্তির নয়। ২০২৩ সালের হাংজু এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার-ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাত্র দুই রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। সাইফ হাসানের নেতৃত্বাধীন দল সেবার ১১৬ রান তুলেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল।
শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য পার পেয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবারো মাথায় আছে সালাহউদ্দিনের। প্রতিপক্ষকে নতুন করে আবিষ্কারের চেয়ে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই কোচ। গতকাল নিশিনে অনুশীলনের ফাঁকে মালয়েশিয়া প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘হ্যাঁ, মালয়েশিয়া সম্পর্কে জানা আছে। কারণ মালয়েশিয়ার সাথে আমি দীর্ঘ দিন কাজ করেছি। মালয়েশিয়া সম্পর্কে মোটামুটি জানা আছে। তবে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ধারণা থাকলেই যে ম্যাচের ফল আগে থেকে নির্ধারিত হয়ে যায় না- সেটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন।
এশিয়ান গেমসে একই উইকেটে একাধিক ম্যাচ হওয়ায় টসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ, ‘এ ধরনের টুর্নামেন্টে আসলে আপসেট হতেই পারে। কারণ একই উইকেটে বারবার খেলা হয়। তো এখানে আসলে অনেক সময় টস একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। এ কারণে বলবো যে, প্রতিটা ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগেই জিতে যাওয়া উচিত না। খেলেই আমাদের জিততে হবে। এভাবে আমরা মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
সালাহউদ্দিনের সতর্কতার পেছনে শুধু হাংজুর স্মৃতি নয়, চলতি এশিয়ান গেমসের ঘটনাপ্রবাহও ভূমিকা রাখছে। এবারের আসরে আফগানিস্তানকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে নেপাল। ফলে কাগজে-কলমের শক্তির সাথে মাঠের বাস্তবতার পার্থক্য যে কতটা হতে পারে, সেটিও সামনে এসেছে। তার ওপর বৃষ্টিও বাড়াচ্ছে অনিশ্চয়তা। নাগোয়াতে গত শনিবার বৃষ্টির পর গতকালও ছিল বৃষ্টির শঙ্কা। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ দলকে টার্ফে অনুশীলন করতে হয়েছে। সোমবারের ম্যাচে বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ালে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠে যাবে। কিন্তু সেই সমীকরণের ওপর নির্ভর করতে চাইছেন না সালাহউদ্দিন। তার চাওয়া, মাঠে নেমেই নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দেয়া।
তাই পুরো টুর্নামেন্টের পথচিত্র সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজানোর বদলে প্রথম ম্যাচটিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ এই কোচ। তার মতে, দীর্ঘ সময় ম্যাচের বাইরে থাকার পর হঠাৎ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে নামাটাও দলের জন্য বড় পরীক্ষা, ‘আমার মনে হয় যে আমাদের প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ হলে খুবই খুশি হবো, কারণ আপনি হঠাৎ করে পাঁচ-সাত দিন ম্যাচ ছাড়া যখন সরাসরি ম্যাচ খেলবেন- খুব কঠিন হয়ে যাবে। আমার মনে হয় যে, প্রথম ম্যাচটা আমাদের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কিভাবে খেলছি, ওখান থেকে আমরা পরেরটা চিন্তা করব। আগেই পরেরটা, শেষের দিকে চিন্তা না করে আমাদের প্রথম ম্যাচটা নিয়ে ভাবা উচিত।’
আইসিসি র্যাংকিংয়ের সুবাদে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নেয়। গ্রুপ পর্বের ফলাফলের পর শেষ আটের লড়াইও নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম কোয়ার্টার-ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ হংকং, চায়না। ভারতের সামনে আফগানিস্তান। নেপালের লড়াই শ্রীলঙ্কার সাথে। আর বাংলাদেশের সামনে মালয়েশিয়া।
কোয়ার্টার-ফাইনালের সূচিতে আজ বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় পাকিস্তান ও হংকং, চায়নার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শেষ আটের লড়াই। একই দিন বেলা ১১টায় মুখোমুখি হবে ভারত ও আফগানিস্তান। আগামীকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় নেপাল-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের পর বেলা ১১টায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। তিন বছর আগে যে মঞ্চে মাত্র দুই রানে মালয়েশিয়ার বাধা পেরিয়েছিল বাংলাদেশ, এবারো সেই একই মঞ্চে একই প্রতিপক্ষ। পার্থক্য শুধু সময় আর দল।








