
কাজের চাপ, দৌড়ঝাঁপ, প্রতিযোগিতার বাজারে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানোর সময় কোথায়! অথচ ঘুমিয়েই লাখ টাকা জিতেছেন ভারতের মুম্বাইয়ের জিনিয়া চ্যাটার্জী। দুই মাসের একটি বিশেষ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ঘুমিয়ে জিতেছেন নয় লাখ ৬০ হাজার রুপি বা ১২ লাখ ৭১ হাজার ২৩২ টাকা। পাশাপাশি স্পনসর করা ছুটি কাটানোর সুযোগও পেয়েছেন তিনি। ওয়েকফিটের আয়োজিত ‘স্লিপ ইন্টার্নশিপে’র পঞ্চম মরশুম বা সিজনে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।
দুই লাখ আবেদন, সুযোগ পেলেন মাত্র ১০ জন
২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল এই অভিনব উদ্যোগ। প্রতিযোগিতার নিয়মও বেশ মজার। পর্যাপ্ত ঘুম, নির্দিষ্ট সময় মেনে ঘুমাতে যাওয়া এবং প্রতিদিনের ঘুমের অভ্যাস উন্নত করার পাশাপাশি অংশ নিতে হয় নানা সাপ্তাহিক চ্যালেঞ্জে। এবার দুই মাসের এই প্রতিযোগিতায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১০ জনকে বেছে নেয়া হয়েছিল। আবেদন জমা পড়েছিল দুই লাখেরও বেশি।
টানা ৬০ দিন ধরে প্রতিযোগীদের ঘুমের সময়, ধরন এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর নজর রাখা হয়। সেই অনুযায়ী তৈরি হত তাদের স্কোর। তবে শুধু ঘুমিয়ে থাকলেই চলত না। প্রতি সপ্তাহে থাকত মজার সব কাজ, যেখানে সৃজনশীলতা এবং উপস্থিত বুদ্ধির পরীক্ষা দিতে হত প্রতিযোগীদের।
ঘুমের মধ্যেও অভিনব সব চ্যালেঞ্জ
কোনো সপ্তাহে ছিল ‘স্লিপ সিনেমা’। সেখানে জনপ্রিয় সিনেমার দৃশ্যকে ঘুমের সাথে মিলিয়ে নতুনভাবে অভিনয় করে দেখাতে হত। আবার ‘স্লিপ বিঙ্গো’তে এক সপ্তাহের ঘুমের অভ্যাস খতিয়ে দেখে নির্দিষ্ট ছক পূরণ করতে হত।
সবচেয়ে মজার ছিল ‘আন্ডারকভার স্লিপ মিশন’। কথোপকথনের মধ্যে কাউকে বুঝতে না দিয়ে ‘কম্বল’ অথবা ‘বালিশ’ শব্দ দু’টি ১০ বার ব্যবহার করতে হত প্রতিযোগীদের। প্রতি সপ্তাহে সেরা পারফরমারকে দেয়া হত ‘প্রো স্লিপার অফ দ্য উইক’ খেতাব।
শেষ পর্যন্ত সেরা তিনে জায়গা করে নেন রত্নগিরির মানিকন্দন, জিনিয়া চ্যাটার্জী ও মেহেক খোট। তাদের সাথে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে ফিরে আসেন হায়দরাবাদের করিম খান। সাপ্তাহিক সৃজনশীল চ্যালেঞ্জে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পাওয়ায় ফের প্রতিযোগিতায় সুযোগ পান তিনি।
শেষ রাতে নির্ধারিত হলো বিজয়ী
চার প্রতিযোগীকে নিয়ে আয়োজিত হয় গ্র্যান্ড ফাইনালে ‘বিগ বেড’। অনেকটা টেলিভিশনের রিয়্যালিটি শো-এর ধাঁচে সাজানো হয়েছিল শেষ পর্ব। সেখানে ছিল একাধিক পরীক্ষা। ‘মেমোরি ফোম চ্যালেঞ্জ’-এ কয়েকটি নমুনা ছবি দেখে একই রকম শোবার ঘর সাজাতে হয়। স্মৃতিশক্তি, পর্যবেক্ষণ এবং দলগত কাজের দক্ষতা যাচাই করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
এরপর আসে ‘স্লিপ অকশন’। বালিশ, কম্বল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, আলো ও শব্দের ব্যবস্থাসহ ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিলামে কিনতে হয় প্রতিযোগীদের।
সব শেষে প্রত্যেকের ঘুমের ব্যবস্থা তৈরি হলে শুরু হয় শেষ রাতের পরীক্ষা। সেই রাতের ঘুমের স্কোরই নির্ধারণ করে দেয় কে হবেন বিজয়ী। চূড়ান্ত হিসাবের পর জিনিয়ার মাথায় ওঠে সেরার মুকুট। পুরস্কার হিসেবে নয় লাখ ৬০ হাজার রুপি এবং ছুটি কাটানোর স্পনসর করা সুযোগ পান তিনি।
সংস্থার দাবি, প্রথম চারটি মরশুম বা সিজন মিলিয়ে এই প্রতিযোগিতায় ১০ লাখেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। ৬৫ জন ইন্টার্ন পেয়েছেন এক লাখ টাকা করে বৃত্তি। ঘুমকে কেন্দ্র করে এমন অভিনব প্রতিযোগিতা যে এত মানুষের আগ্রহ তৈরি করতে পারে, জিনিয়ার জয় যেন আরো একবার তা প্রমাণ করল।
সূত্র : দ্য ওয়াল
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








